img

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ বাস ভবনে আছেন খালেদা জিয়া। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও, মানসিকভাবে স্বস্তিবোধ করছেন কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন। নেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন লন্ডনে আবস্থানকৃত পুত্র তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান নিজেই।

জাহিদ বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসা ভালভাবে চলছে। ঘরোয়া পরিবেশে থাকার কারণে বেশ স্বস্তি বোধ করছেন। মানসিক বলও বেড়েছে। কারাগারে যে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল তা এখন অনেক কমেছে। চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপও কমেছে। লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান নিজে, ম্যাডামের চিকিৎসার তদারকি করছেন। তিনি একজন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট।

দীর্ঘ দু’বছর পর গত বুধবার বিকালে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া। মুক্ত হয়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেগম জিয়ার চিকিৎসা শুরু করেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউম্যাটিক আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা রোগে আক্রান্ত।

বেগম জিয়া ‘ফিরোজা’র দো’তলায় ১৫ দিনের জন্য কোয়ারেনটাইনে থাকবেন। তার সর্বক্ষণ যত্নের জন্য নার্সসহ আরো কয়েকজনও সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন। চিকিৎসকের টিমের সদস্য ও নিকট আত্বীয়-স্বজনরা ছাড়া কারো প্রবেশাধিকার নেই। নিরাপত্তাকর্মীরা সব সময়ে গেট বন্ধ রেখে পাহারা দিচ্ছেন।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, কারাগারের নির্জনতা ও নির্মমতার কারণেই ম্যাডামের মানসিক বিপর্যস্ত ঘটেছে। ওজন কমেছে ৯/১০ কেজি। মানসিক ভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এখন ম্যাডাম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম অনুসারে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে চলছেন। নিয়মিত ভাবে স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করছেন। ডাক্তারদের সাথেও কথা হচ্ছে। তার সার্বিক সুস্থতার জন্য ঘরের ভেতর বই পড়া, বিশ্রাম, হাটা চলার ইত্যাদি সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চিকিৎসার বিষয়ে জাহিদ জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)-এর মেডিকেল বোর্ডের দেয়া ওষুধের তালিকায় কিছুটা সংশোধন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ম্যাডামের ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিমের পরামর্শেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে। এখনো ম্যাডামের রিউম্যাটিক আর্থারাইটিসের কারণে হাত-পায়ে প্রচন্ড ব্যথা রয়েছে। তবে শ্রীঘই তা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর