Ads
img

শামীম আরা নিপা। পেশায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে প্রশাসনিক গন্ডির বাইরেও জনমুখী বিভিন্ন কর্মকান্ড করে জনবান্ধব একজন কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই মেলেছে তাঁর ঝুলিতে। বর্তমানে কর্মরত আছেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে। ২০১৬ সালে শামীম আরা নিপার কর্মস্থল ছিল ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায়। তৎকালীন সময়ে তিনি দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেসময়ে তাঁর হাত ধরেই প্রথমবারের মত দোহারে বদলে গিয়েছিল ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমের দৃশ্যপট। আলোচনায় উঠে এসেছিলেন বাড়ির আঙিনায় গিয়ে ভূমি সংক্রান্ত কাজের সেবা দিয়ে।

শামীম আরা নিপার হাত ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প দোহার উপজেলার মাহমুদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের হতদরিদ্র বাসিন্দারা বাড়ির আঙিনায় বসে করতে পেরেছিল জমির দলিল। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভূমি কার্যালয়টির পাশে হয়েছিল নতুন ভবন। ভবনের চারপাশ ঘিরে তৈরি করা হয়েছিল সবুজের সমারোহ, হয়েছিল সেবাগ্রহীতাদের জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। সামনে সাঁটানো হয়েছিল ডিজিটাল সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেস্টনী আর নতুন রঙের প্রলেপে ভবনটিও পেয়েছিল আভিজাত্যের শোভা। তখন শুধু অফিসের চেহারায় জৌলুস আসেনি, সেবার মানেও এসেছিল পরিবর্তন। ভূমি অফিস হয়েছিল দালালমুক্ত একইসাথে সেবার মানেও এসেছিল নতুনত্ব। শামীম আরা নিপার হাত ধরে বদলে যাওয়া সে দৃশ্যপটের ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে।

অন্তত দুইবছর দায়িত্ব পালন শেষে বদিল হয়ে দোহার থেকে চলে যাওয়া সেই শামীম আরা নিপাই বর্তমানে কর্মরত আছেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে। সেখানেও তাঁর হাত ধরে হচ্ছে ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কর্মকান্ড। সরকারি বাসা থেকে অফিস প্রাঙ্গণ সবখানেই আসতে শুরু করেছে পরিবর্তন। পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে কার্যক্রমেও। তাঁর চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কালিহাতীতে এবারের বইমেলায়। মেলার মঞ্চে এসেছে নান্দনিকতা। উঠে এসেছে দেশমাতৃকাকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ, প্রকাশ পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। বইয়ের প্রচ্ছদ আর মলাটের আবহে এই প্রথমবারের মত কালিহাতী বইমেলার মঞ্চ সেজেছিল অন্যরকম আবহে।

বইমেলায় স্কুল পড়–য়া মেয়কে নিয়ে রাজাবাড়ি থেকে ঘুরতে আসা মো. আকরাম হোসেন বলেন, এবারের বইমেলার মঞ্চটি ঘিরে অনেক কিছু প্রকাশ পেয়েছে। আমার মেয়েকে মঞ্চের দিকে আঙ্গুল তুলে কিছু শেখাতে ও জানাতে পেরেছি। আসলেই বিষয়টি শিক্ষনীয়। যাঁর চিন্তাচেতনা থেকে এমন মঞ্চের ধারণা এসেছে বিডি শোবিজ তাকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

এবারের বইমেলার স্লোগান ছিল ‘মাতৃভাষায় হোক জীবনের বিকাশ’। টাঙ্গাইলের কালিহাতী সাধারণ পাঠাগার, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের যৌথ প্রয়াসে উপজেলার আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে বইমেলার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কালিহাতী সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি শামীম আরা নিপা’র সভাপতিত্বে বইমেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী। মেলায় ৯৬টি স্টল স্থান পায়। ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি, শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মেলা সমাপ্ত হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একুশের অনুষ্ঠান ঘিরেও ছিল ভিন্নতা। প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো, নীরবতা পালন, কালো ব্যাজ ধারণের পাশাপাশি কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল বিভিন্ন কর্মসূচী। স্কুল পর্যায়ে ছিল বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই বর্তমান প্রজন্মকে মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত করছে’। এছাড়া ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আলোচনা অনুষ্ঠান ছিল প্রতিবছরের মত।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে তাঁর ধারাবাহিক জনবান্ধব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে প্রশংসা পেয়েছেন শামীম আরা নিপা। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শামীম আরা নিপা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের বিশেষ তাগিদ হচ্ছে প্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি সে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে তাহলেই প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে একইসাথে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে।
তিনি বলেন, চেষ্টা করি প্রশাসনিক গন্ডির বাইরেও নিজের অনুধাবন থেকে জনবান্ধব কাজ করার, সাধারণ মানুষের পাশে থাকার।
শামীম আরা নিপা মনে করেন, আমাদের কর্মকান্ডগুলো যদি আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষনীয় হয় তাহলে দেশের অগ্রযাত্রায় তারাও অগ্রপথিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এই বিভাগের আরও খবর