img

এটাই প্রথম না, আগেও দুবার ভুল করেছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। তিনি সুরকার প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও সুরারোপিত জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। অনুষ্ঠান সম্প্রচারে উচ্চারণ করেননি মূল সুরকার ও গীতিকারের নাম। বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশনে ব্যবহারের পর ইউটিউবেও আপলোড হয়েছে সেই গান।

বাংলাদেশের কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ব্যবহার কপিরাইট আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। বিশ্বের যেকোনো দেশেই এটা মেনে চলা হয়। আমাদের কপিরাইট আইনেও একই বিধান আছে। যেকোনো গান সুরকার ও গীতিকারের সম্পদ। কেউ তাঁদের অনুমতি ছাড়া গানের বাণিজ্যিক ব্যবহার করলে তা আইনের লঙ্ঘন হবে।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার গানের প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’য় একের পর এক গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এই মঞ্চে গান গেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর ভক্ত তৈরি হয়েছে তাঁর। এ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে আছে দুই বাংলার সুপারহিট কিছু গান। ভক্তদের কাছে তিনি ‘নোবেলম্যন’ নামে পরিচিত। জনপ্রিয় গানগুলো নতুন আয়োজনে নোবেল উপস্থাপন করেছেন ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে। নোবেল প্রশংসা পেয়েছিলেন প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে জেমসের গাওয়া ‘বাবা’ গানটি গেয়ে। প্রতিযোগিতার শুরুর দিকে ‘বাবা’র মতো জনপ্রিয় হৃদয়গ্রাহী গানের কারণেই দ্রুত পরিচিতি পেয়েছেন নোবেল। এরপর প্রিন্স মাহমুদের কথা সুরে ‘মা’ গানটি তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।

এই প্রতিযোগিতায় প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরের তিনটি গান গেয়েছেন। ‘বাবা’, ‘মা’ এবং ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’। তিনবারের একবারও গীতিকার বা সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি।

সম্প্রতি জি বাংলায় প্রচার হয় ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ গানটি। গানের শুরুতে গানটিকে আর্ক ব্যান্ডের গান বলেও উল্লেখ করেন। এটি ভুল তথ্য। বিষয়টি প্রিন্স মাহমুদের নজরে আসার পরে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে প্রিন্স মাহমুদ লিখেছেন, ‘দুঃখিত, “এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়” আর্ক ব্যান্ডের গান না। এটা ১৯৯৮ সালে রিলিজ হওয়া আমার কথা ও সুরে মিক্সড অ্যালবাম “শেষ দেখা”–তে হাসান গেয়েছিল।’

যোগাযোগ করা হলে দেখা যায়, বেশ উত্তেজিত প্রিন্স মাহমুদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ। একই ঘটনা বারবার হলে সেটা ভুল না, অপরাধ। আগে দুবার এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি শুরুতে অনেক ছাড় দিয়েছি, উদারতা দেখিয়েছি। আর না।’

প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘একটা মানুষের সৃষ্টিকে এভাবে অপমান করা হয়, তখন কী পরিমাণ খারাপ লাগে, এটা এদের মতো নবীন অবুঝেরা বুঝতে পারবে না। তবে বারবার এভাবে ছাড় দিলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে।’ প্রিন্স মাহমুদ জানান, তাঁর সঙ্গে নোবেলের আলাপ হয়েছে, জি বাংলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে।

প্রিন্স জানান, দুই মাস আগে ‘বাবা’ গানটি প্রচারের পর নোবেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। প্রতিটি গান নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘যতটা জানি, জি বাংলায় এ অনুষ্ঠান ধারণের সময় নোবেল যা যা বলেছে, সেটাই প্রচার করেছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়নি। তার মানে নোবেল ইচ্ছা করেই বারবার এমনটা করছে। আমার করা গান যেকেউ গাইতেই পারে, কোনো সমস্যা না। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সে বিষয়ে অনুমতি নিতে হবে। যথাযথ নিয়মের মধ্যে যেতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে মন্তব্য নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মাঈনুল আহসান নোবেল। জি বাংলার ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতার সব অনুষ্ঠান ধারণ শেষে ২ জুলাই ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আপাতত তিন সপ্তাহ দেশে থাকবেন।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ