img

২০১৮ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ বিলিয়ন (১৬  শ’ কোটি) ডলার। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বিশ্ব ব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্রিফ শীর্ষক প্রতিবেদনে রেমিট্যান্সের এ সম্ভাব্য পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশও রেমিট্যান্স অর্জনে ডবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে (১৭ দশমিক ৯ শতাংশ) বাড়তে যাচ্ছে।

প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। রেমিট্যান্স আয়ের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, মিসর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি। চীনের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৬৭ বিলিয়ন ডলার। মেক্সিকোর ৩৪ বিলিয়ন ডলার, ফিলিপাইনের ৩৪ বিলিয়ন ডলার। মিসরের ২৬ বিলিয়ন ডলার, নাইজেরিয়া ২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান ২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, ইউক্রেন ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, ভিয়েতনাম ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ব ব্যাংকের ধারণা, ২০১৮ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রেমিট্যান্স বাড়বে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এতে করে এর পরিমাণ  দাঁড়াবে ৫২৮ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর ২০১৭ সালে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সের হার বাড়তে পারে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বছর এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

মূলত অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ধনী দেশগুলোর শক্ত অবস্থানের সুবাদেই রেমিট্যান্স বেড়েছে অন্য দেশগুলোতে। এছাড়া, ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ার সুবিধা পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো।

২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে আমিরাতের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৩ শতাং।

ভারতে এবছর রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ভারতের কেরালায় ভয়াবহ বন্যা দেশটির সামগ্রিক রেমিট্যান্সের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা।

দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ পাকিস্তানের রেমিট্যান্স অর্জনের প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরব। সম্প্রতি সৌদি থেকে অর্থপ্রবাহ কমলেও এবছর পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দেশগুলোতে অপেক্ষাকৃত সংযম এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অভিবাসনের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ