img

ঢাকার চলচ্চিত্রের চলতি সময়ের একমাত্র সুপার স্টার শাকিব খানের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী এখনও কেউ গড়ে উঠেনি। গেলো বছর ঢাকা অ্যাটাক ছবির সাফল্যে অনেকেই ভেবেছিলেন আরেফিন শুভ বুঝি তার শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিতে সক্ষম হবেন। কিন্তু শুভ পারেননি শাকিবকে টেক্কা দিতে। হাল সময়ে ফিল্ম বোদ্ধাদের অনেকেই সিয়ামের মাঝে শাকিবের ছায়া খুঁজতে শুরু করে দিয়েছেন। এর নেপথ্যে কারণও আছে। পোড়ামন-২ এর পর গেলো ৩০ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া দহন ছবিটির মাধ্যমে সিয়াম পেলেন ব্যাক টু ব্যাক সাফল্য। অর্থাৎ দহন ছবির দর্শকপ্রিয়তার কল্যাণে সিয়াম সত্যিকার অর্থেই হাল সময়ে সুপার স্টার শাকিব খানের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছেন।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের মতেই চলচ্চিত্রের চলতি সময়ে শাকিবকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছেন সিয়াম। ইতিমধ্যে শাকিবের ন্যূনতম নিশ্চয়তার (মিনিমাম গ্যারান্টি, এমজি) রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সিয়াম। ঢাকার মধ্যে শাকিবের ছবি চালিয়ে সিনেমা হল থেকে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম আদায় করার রেকর্ড আছে। সেখানে সিয়ামের ‘দহন’ আদায় করেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। এতে করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা অবাক হয়েছেন। তেমনি তারা দহন ছবির কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে সিয়ামের উপর এখন পুরোপুরি ভরসা রাখতে শুরু করেছেন। তারা নিশ্চিত হয়ে গেছেন এই ভেবে যে, এমন ব্যাক টু সাফল্যে সিয়াম ক্রমশই শাকিবের কাছাকাছি অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।

 

শুধু তাই নয়, সিয়ামই এখন শাকিবকে টেক্কা দেয়ার জন্য নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছেন নিজের অভিনীত ছবির সাফল্যে। তেমনি সিয়াম তার অভিনয়, গ্ল্যামার ও ব্যাক্তিগত ভদ্র ব্যবহার দিয়ে ইতিমধ্যে সিনেমা দর্শক, প্রযোজক,কলা কুশলী,সহশিল্পী, সাংবাদিক, নির্মাতা তথা চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত সকল পেশার মানুষের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছেন।

নিজের অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘পোড়ামন-২’ এর ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা তৈরি করে সিয়াম। আর পেয়ে যান তারকাখ্যাতি। এই সিনেমার কল্যাণে দেশে-বিদেশের দর্শক চিনে নেয় তাকে। সিয়ামের প্রথম সিনেমা মুক্তির আগে ও পরে শাকিবের কোনো সিনেমাই এতটা দর্শকপ্রিয়তা পায়নি। এমনটি গেলো ঈদের পর মুক্তি পাওয়া কোনো সিনেমাও ‘পোড়া মন-২’ এর মতো ব্যবসা সফল হয়নি। সেদিক থেকে বিচার করলেও সিয়াম শাকিব থেকে এগিয়েই আছেন। আর এখন তো দহন ছবির বিশাল পাবলিসিটি আর দর্শকপ্রিয়তার কল্যাণে সিয়াম এখন তুমুল আলোচিত একজন নায়ক।

সংগত কারণেই যেসব নির্মাতা শাকিবের বিকল্প খুঁজছেন, তাদের অনেকেরই ভাবনায় এখন সিয়াম। তার সাথে যোগাযোগ করছেন অনেক নির্মাতাই। কয়েকটি সিনেমায় কাস্টিংও করেছেন সিয়ামকে। এক্ষেত্রে অবশ্য ফিল্ম বোদ্ধাদের পরামর্শ হলো – সিয়ামকে এ পথে মাড়াতে হবে খুব সতর্কতার সঙ্গে। তাকে খুব বেছে বেছে সিনেমা করতে হবে। শুধু নিজের চরিত্রই নয়, আশপাশের চরিত্রগুলো এবং পুরো সিনেমার কাহিনীর দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। আর আশার কথা হলো সিয়াম তার চলতি ফিল্ম ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার কাজে এমন পন্থাই অবলম্বন করছেন। অর্থাৎ ধীর লয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার পরিচালনা করছেন সিয়াম। তাছাড়া ব্যারিস্টারি পাস করা জনপ্রিয় এই টিভি তারকা ঠান্ডা মাথার বুদ্ধিমান ছেলে। সিয়াম ভালো করে জানেন কিভাবে এগুতে হয়। তিনি এটাও জানেন তার পরবর্তী গন্তব্য কী? চলচ্চিত্রে তার লক্ষ্য কী। আর সিয়ামের সবচে বড় সাপোর্ট হলো জাজের মতো বড় হাউজের ব্যাক টু ব্যাক ছবিতে অভিনয় করা। তেমনি তার অভিনীত ছবি পাচ্ছে বিশাল দর্শকপ্রিয়তা।

সবাই আশা করছে দহন ছবিটি পোড়ামন ২ এর চেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়তা পাবে। আর সেটি বুঝা যাবে ছবিটির দ্বিতীয় সপ্তাহের দর্শকপ্রিয়তার মাপকাঠিতে। সেটি যদি সত্যি সত্যিই ঘটে তাহলে সিয়াম তার পূর্বসুরী তারকা শাকিব খানের খুব কাছাকাছি নিজেকে দাঁড় করাতে সক্ষম হবেন। আর তাতে করে হয়তো খুব শীঘ্রি শাকিবের ঘাড়ে নিজের গরম নিঃশ্বাস ফেলবেন সিয়াম। কেননা জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটার সিয়ামকে নিয়ে যাবে শাকিব সাম্রাজ্যের একেবারেই দোরগোড়ায়। আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা কিন্তু সেটাই চাচ্ছেন। কারণ, দেশীয় চলচ্চিত্রের উত্তরণে সিয়ামের মতো বেশ কিছু তারকার প্রয়োজন রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর