img

আগামী বছর অর্থ্যাৎ ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এ জন্য চালু করা হবে একটি ‘কন্ট্রিবিউটারি পেনশন ফান্ড’। এই ফান্ডে বেসরকারিখাতের চাকরিজীবীরা তাদের বেতনের একটি অংশ জমা রাখবেন। একই ফান্ডে অংগ্রহণ থাকবে এই সব চাকরিজীবীর নিয়োগ কর্তাদেরও।

এই জন্য গঠন করা হবে একটি সার্বজনীন ‘পেনশন কর্তৃপক্ষ’। ইতোমধ্যে এই পেনশন ব্যবস্থার একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এই বিষয়ে অর্থ বিভাগের শীর্ষ স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এই ফান্ডের একটি রুপরেখা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই রূপরেখা প্রণয়ন হলে তা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপরই উদ্যোগে নেয়া হবে এ ব্যবস্থা চালুর।

সরকারি-বেসকারি কর্মকতা-কর্মচারিদের জন্য এটি একটি ‘সার্বজনীন ফান্ড’ হবে। সংশ্লিষ্ট চাকুরীজীবীরা এই ফান্ডে একটি ‘কোড’ নাম্বারের বিপরীতে অর্থ জমা রাখবেন। তারা চাকরি পরিবর্তন করলেও কোড নাম্বারের কোনো পরিবর্তন হবে না। অবসর নেয়ার পর রুপরেখা অনুযায়ী এই কোডের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেনশন পাবেন। এই ফান্ডের টাকা সরকার বিভিন্ন লাভজনকখাতে বিনিয়োহ করে মুনাফা করবে এবং এই মুনাফার অর্থ ফান্ডে অংশ নেয়া চাকরিজীবীরাও পাবেন।

তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না এই ফান্ডে অংশগ্রহণের জন্য। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ জন্য কোনো কর রেয়াত পাবেন কীনা-এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ বিভাগের কর্মকতা-‘না’ সূচক জবাব দেন। এর আগে বেসরকারি খাতে পেনশন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রথম কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মাস দু-এক পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যেও এ বিষয়ে তাঁর কথা থাকে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, নগরায়ণের কারণে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে তাঁদের আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারের একার পক্ষে এ ঝুঁকি মোকাবিলা করা দুরূহ। তাই দেশের সব শ্রমজীবী মানুষসহ প্রবীণদের জন্য একটি সর্বজনীন ও টেকসই পেনশন পদ্ধতি চালু এখন সময়ের দাবি। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন এখন থেকে আর কাউকে তার পেনশনের হিসাব করা, পেনশন নেয়া -এগুলো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে না। ইট ইজ ইন কিপিং উইথ দ্য ফিলোসফি অব দ্য স্টেট।

কারণ, এখন ফিলোসফি হলো যত সিটিজেন আছে সবাইকে একটা সুযোগ করে দিতে হবে। এটা ইউনিভার্সল পেনশন, যেটা আমরা মোর অল লেস কমিটেড, যে কোনো সময় হয়তো সেটা হবে। তিনি বলেন, দেশের পেনশন ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্কার হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। আজ যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা যুগান্তকারী। এখন থেকে পেনশন ওঠাতে ছোটাছুটি করতে হবে না। মুহিত আরো বলেন, এ জন্য আগামী বাজেটে আই অ্যাম থিঙ্কিং অ্যান্ড অ্যানাউন্সিং।

আমরা পেনশন সিস্টেমের যেটা করলাম, এটা নিয়ে দেশের প্রত্যেক নাগরিক বেনিফিটেড হবে। কারণ জাতীয় পেনশন পদ্ধতিতে সকলকে ইনকর্পোরেট করা হবে। ১৬ কোটি মানুষ উড বি ইনকর্পোরেটেড ইন দ্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আগেও বলেছি আমরা চিন্তা করছি, পেনশন সিস্টেম ফর দ্য হোল ন্যাশন।

আমি সেটার রূপরেখাটা অ্যানাউন্স করব। এটা ইন্ট্রোডিউস হবে না ইমিডিয়েটলি বাট উই স্যাল অ্যানাউন্স দ্য আউটলাইন অব দ্য ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম। এটা নিয়ে আমাদের এখানে কাজ হচ্ছে।’ এ সময় অর্থ সচিব(তৎকালীন) মুসলিম চৌধুরী বলেন, ইউনিভার্সল পেনশন সিস্টেমের জন্য ইনস্টিটিউশন তৈরি করতে হবে। ফরমাল ও ইনফরমাল পেনশনের জন্য রেগুলেটরি অথরিটি লাগবে। স্যার (অর্থমন্ত্রী) এবার বাজেটে এটার রূপরেখা দেবেন। সেটার ব্যসিসে গভর্নমেন্ট ওয়ার্ক অন ইট।

এই বিভাগের আরও খবর