রাজধানীতে দুটি নতুন মেট্রো রেল লাইন নির্মাণে প্রায় ৫৮,৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দুটি নতুন মেট্রো রেল লাইনের অবকাঠামো ও ডিপো নির্মাণে প্রায় ৫৮,৪৭৮ কোটি (৫৮,৫০০ কোটি) টাকার ৮টি বড় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পের বিবরণ
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (ডিএমআরটি) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হতে যাওয়া নতুন এই দুটি রুট হলো:
১. এমআরটি লাইন-১ (পাতাল ও উড়াল রেল): দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ বা পাতাল মেট্রো রেল লাইন। এটি বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
২. এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর রুট): এটি হেমায়েতপুর থেকে গাবতলী, মিরপুর, কচুক্ষেত, বনানী ও নতুন বাজার হয়ে ভাটারা পর্যন্ত সংযুক্ত করবে।
প্যাকেজ ও অর্থায়ন ব্যবস্থা
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই দুই প্রকল্পের আওতায় মোট ৮টি মূল অবকাঠামো ও কারিগরি কাজের প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ টানেল ও স্টেশনের পূর্তকাজ, উড়াল পথ ও স্টেশন নির্মাণ, ট্র্যাক স্থাপন, এবং ট্রেন ডিপোর আধুনিক অবকাঠামো তৈরি।
প্রকল্প দুটি যৌথভাবে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার (GoB) এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA)। এটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
অর্থনৈতিক ও নাগরিক প্রভাব
বর্তমানে সচল থাকা এমআরটি লাইন-৬ (উত্তরা থেকে মতিঝিল) প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রী পরিবহন করে নগর জীবনে বড় ধরণের স্বস্তি এনে দিয়েছে। নতুন অনুমোদন পাওয়া এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ চালু হলে ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমের যোগাযোগে এক অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্প পরিচালকরা জানিয়েছেন, নতুন দুটি লাইন পুরোপুরি চালু হলে দিনে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ যানজট এড়িয়ে দ্রুত ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে কর্মঘণ্টা বাঁচবে এবং জ্বালানি ব্যবহারের হার কমে ঢাকার সার্বিক পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্পের কাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

