বিভ্রান্তিকর কথা বলে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার কী হবে সেই পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টা নিয়ে কিছু মানুষ কিছুদিন ধরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিএনপি সরকার পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। আপনাদের পরিকল্পনা থাকলে জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন; কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না, দেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর হয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়। দেশ গঠনে কাজ করার সময়।
তিনি বলেন, আমাদের পরে স্বাধীন হলেও পরিশ্রম করার মাধ্যমে অনেক দেশ এগিয়ে গেছে। আর পেছনে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। যেই পরিকল্পনা আমি গ্রহণ করেছি তা জনগণের পক্ষে। ঠিক থাকলে সমর্থন থাকতে হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আনোয়ারায় চীনকে আমরা একটি বিরাট জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হবে, একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার কার্ড পাবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি। শুধু যারা ধান, পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করেন, তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। লবণচাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তারাও কৃষক কার্ড হাতে পাবেন।
তিনি আরও বলেন, একটি কথা এসেছে যে, লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার। আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষি ভাইদের স্বাবলম্বিতা আসবে, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না। সমাবেশে উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- অর্থ পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৩ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের এমপি মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার এমপি সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবনের এমপি সাচিং প্রু জেরি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান, বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন খালিল, এপিপি নাসির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু আহমদ প্রমুখ।

