img

স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ভবন (বঙ্গভবন) একই সঙ্গে গৌরব, বিতর্ক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ইতিহাস। এটি ক্ষমতার পালাবদল, সংবিধানের বিবর্তন, সামরিক শাসন, গণতন্ত্রের উত্থান-পতন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও এক জীবন্ত দলিল।

দেশের ইতিহাসে ২২ জনের মধ্যে মাত্র চারজন রাষ্ট্রপতি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে কেউ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন অথবা ক্ষমতায় থাকাকালে মারা গেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত কে এ মূল্যায়নের সঙ্গে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জড়িত। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে এর গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন কঠিন। 

সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে বিতর্ক: দেশের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত রাষ্ট্রপতির তালিকায় রয়েছেন সদ্য পদত্যাগী মো. সাহাবুদ্দিন। শুরুটা তার নিয়োগ নিয়ে। কারণ তিনি দ্বৈত নাগরিক। মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব রয়েছে তার। 

 

এ রকম একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া সংবিধান সম্মত ছিল না। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার, কলঙ্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের স্বার্থরক্ষা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে থাকাকালে দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত অনেক ব্যবসায়ীর ফাইল গায়েব করে দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতা ধরে রাখতে পুতুল ব্যক্তি হিসাবে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে ২০২৩ সালে সাহাবুদ্দিনকে একক সিদ্ধান্তে নির্বাচিত করেন শেখ হাসিনা। 

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সমালোচনায় পড়েন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কিছু বক্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন।

খন্দকার মোশতাক: আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ও কলঙ্কিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক। আওয়ামী লীগের দাবি-১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে জড়িত। হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে তিনি ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেন। এ কারণে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন আটকে ছিল।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: ১৯৮২ সালে দায়িত্ব নেওয়া তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে স্বৈরশাসক শব্দটি জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের প্রতীক তিনি। সামরিক আইন জারি, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমন, প্রশাসন ও নির্বাচনব্যবস্থা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। 

১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে কারাবন্দি হন তিনি। ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে এরশাদের বড় ভূমিকা ছিল। শেষদিকে রাজনীতিতে এরশাদ একটি কমেডিয়ান চরিত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। যে কোনো ইস্যুতে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে বিনোদনের খোরাক ছিল।

ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৬-২০০৭ সালে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির জন্য তার বিতর্কিত ভূমিকা সবচেয়ে বেশি দায়ী। 

দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিচ্যুতি ঘটানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অন্যতম। বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বহুল আলোচিত-সমালোচিত ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়। এ ওয়ান-ইলেভেনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কালো অধ্যায় বলা হয়। 

একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী: ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। রাজনৈতিক বিরোধে তার বিদায় হয়। 

বিএনপির একটি অংশ অভিযোগ তোলে, তিনি দলীয় প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করেননি। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের মাজারে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ