মৌমাছির আক্রমণে থমকে গেল ফাইনাল, ছত্রভঙ্গ ফুটবলাররা
ম্যাচ গড়িয়ে তখন ১১ মিনিট। বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত দুই দলের তরুণ ফুটবলারেরা। কিন্তু হুট করেই পুরো মাঠ ঘিরে নামল এক অদ্ভুত আতঙ্ক। কোনো সমর্থক বা অনাকাঙ্ক্ষিত দর্শক নয়, খেলার মাঠে হানা দিল এক বিশাল মৌমাছির ঝাঁক! নিরাপত্তার ভয়ে মাঠের ফুটবলার থেকে শুরু করে রেফারি—সবাই সোজা উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন ঘাসের ওপর।
ব্রাজিলের বাইয়া রাজ্য অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের ফাইনালের প্রথম লেগে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। ফেইরা দে সান্তানার জোইয়া দা প্রিন্সেসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল হোম টিম ফ্লামিনেনসে দে ফেইরা এবং সফরকারী বাইয়া। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ মৌমাছির ঝাঁক হানা দেয় মাঠে।
কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খেলোয়াড়দের ওপর আক্রমণ শুরু করে মৌমাছির দল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধের বাঁশি বাজান। হুল ফোটানো থেকে বাঁচতে মুখ ঢেকে দ্রুত মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা।
পরবর্তীতে ম্যাচের ভিডিও ও স্থিরচিত্রে দেখা যায়, মৌমাছির বিশাল দলটি আসলে স্টেডিয়ামে থাকা একটি টিভি ক্যামেরার চারপাশে জটলা পাকাচ্ছিল। সম্ভবত ক্যামেরার কোনো ডিভাইস বা আলোর উত্তাপের কারণেই মৌমাছিগুলো সেখানে আকৃষ্ট হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেন মাঠকর্মীরা। মাঠের পুরো ইরিগেশন বা ওয়াটার স্প্রিংকলার সিস্টেম চালু করে দেওয়া হয়। চতুর্দিক থেকে পানির ছিটা দিতেই মৌমাছির দল ছত্রভঙ্গ হতে শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিটের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আবারও খেলা শুরু করেন রেফারি।
তবে মৌমাছির আক্রমণের ভীতি কাটিয়ে খেলা শুরু হলেও বাইয়ার কপালে বড় দুর্ভোগই অপেক্ষা করছিল। প্রথম লেগের এই ম্যাচে স্বাগতিক ফ্লামিনেনসে দে ফেইরার কাছে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বাইয়া। অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা ফ্লামিনেনসের হাতে ওঠা এখন কেবল দ্বিতীয় লেগের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়।

