মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লি পুলিশ
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত নিট আন্দোলনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
ইতোমধ্যে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের এই পদক্ষেপে চিহ্নিত করা অধিকাংশ আপত্তিকর ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
একটি বিশেষ পুলিশ দল নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট নজরদারিতে রাখছে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত উপাদান নজর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার ঠিক এক দিন পরই দিল্লি পুলিশের এই সাইবার অভিযানের খবর সামনে এলো। মে মাসের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রায় ৩৭ দিন ধরে চলার পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের আরও দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়েই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সাবেক আপ (এএপি) কর্মী অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল।
পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ চলো মার্চ’-এর সময় পুলিশি লাঠিচার্জের পর তৈরি হওয়া চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে শান্ত হয় এবং আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

