img

মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের ওপর আরোপিত তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুমতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে ইরানের জন্য যে প্রধান অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকছে না।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। কাতার ও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, তাদের কয়েকটি জাহাজের ওপর ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে চলমান আলোচনায় ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ওই ছাড়ের আওতায় ইরানকে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই জানিয়েছিল, যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ওপরই এই সুবিধা নির্ভর করবে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের তথ্য এবং কাতারের দাবি অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ। 

কাতার জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে চলাচলের সময় তাদের এলএনজি জাহাজে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দেশটি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার ব্যাখ্যা দাবি করে এবং ইরানকে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বিপন্ন না করার’ আহ্বান জানায়।

একই এলাকায় সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে।

তবে এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি তেহরান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের অভিযোগ, অনেক জাহাজ তাদের আঞ্চলিক জলসীমা এড়িয়ে ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে চলাচল করছে, যা নিয়ে দেশটি অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।

এই বিভাগের আরও খবর