বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেল বেলজিয়াম
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে বেলজিয়াম।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখলেও, ফিফার হস্তক্ষেপে এখন শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের এ স্ট্রাইকার।
বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (আরবিএফএ) জানিয়েছে, ফিফার এ সিদ্ধান্তে তারা ‘বিস্মিত’। সংস্থাটির দাবি, ফিফা তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞাটি স্থগিত করেছে।
এক বিবৃতিতে আরবিএফএ বলেছে, এই সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার নিয়মকানুনের সঙ্গে ‘সরাসরি সাংঘর্ষিক’। বিষয়টি নিয়ে তারা ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ বিবেচনা করছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছে, বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে আপিল করেছে এবং সেই আপিল গ্রহণ করা হয়েছে।
ফিফা যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন ও বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন—উভয় পক্ষকেই সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার সময় দিয়েছে। তবে বেলজিয়ামের অভিযোগ, ফিফা যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে, তার আনুষ্ঠানিক নথি এখনো তাদের দেওয়া হয়নি এবং সেটি প্রকাশও করা হয়নি।
মামলাটি শুনানির জন্য ফিফার আপিল কমিটির একজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তিনি উয়েফা বা কনকাকাফভুক্ত কোনো সদস্য ফেডারেশনের প্রতিনিধি নন।
সোমবার সকালের মধ্যে উভয় পক্ষকে তাদের বক্তব্য জমা দিতে হবে। ম্যাচ শুরুর আগেই রায় আসতে পারে, তবে এমন নিশ্চয়তা ফিফা বেলজিয়ামকে দেয়নি।
তবে এ পর্যায়ে এসে ফিফা দ্বিতীয়বারের মতো অবস্থান পরিবর্তন করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার রাতে লাল কার্ড দেখার পর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বালোগান এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। পরে হঠাৎ করেই সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা।
আপিলটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি তা সত্যিই ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে—সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘এপ্রিল ফুলস’ বা পহেলা এপ্রিলের রসিকতা হিসেবে অভিহিত করেছেন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া। ৫ জুলাইয়ের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তার জানা ছিল না যে বিশ্বকাপে ৫ জুলাই আসলে ১ এপ্রিল।
সংবাদ সম্মেলনে রুডি গার্সিয়া বলেন, বেলজিয়ান ফেডারেশন শুধু নিজেদের বা জাতীয় দলকে রক্ষা করছে না; তারা সামগ্রিকভাবে ফুটবলের সততা এবং নৈতিকতা রক্ষা করছে।
ফিফার সিদ্ধান্তকে বিদ্রূপ করে তিনি আরও বলেন, আমি জানতাম না যে বিশ্বকাপে ৫ জুলাই আসলে ১ এপ্রিল—এপ্রিল ফুলস দিবস।
গার্সিয়া আরও বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগে কখনো নেওয়া হয়নি। যাই হোক, আমি একজন কোচ। তাই আমি আমার দল এবং ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দেব—যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর একাদশে কে থাকল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমার কাছে মাঠের খেলা, আমার দল, জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেন, মাঠের খেলায় জেতার জন্য আমাদের মনোযোগে কোনো ঘাটতি হবে না। বাকিটা ফুটবল ফেডারেশন দেখবে এবং তারা এরই মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।
বালোগানের ফেরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় শক্তি। তিনি চলতি বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা (৩ গোল) এবং অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। প্রতিটি ম্যাচেই তিনি কোনো না কোনোভাবে গোল বা অ্যাসিস্টের সাথে যুক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচটি সোমবার সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

