যে কারণে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ‘ভায়াগ্রা’ ব্যবহারের অনুমতি পেল ইংল্যান্ড
ফিফা বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে রাউন্ড অব ১৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড দলের প্রস্তুতিতে এক অদ্ভুত মোড় এসেছে।
মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামের অতিরিক্ত উচ্চতাজনিত কারণে শারীরিক সমস্যা মোকাবিলা করতে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ‘ভায়াগ্রা’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে।
আগামী নকআউট পর্বের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটিতে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এত উঁচুতে বাতাস পাতলা থাকার কারণে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। ফলে খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা, ম্যাচের ধকল কাটিয়ে ওঠা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—বিশেষ করে যারা এই ধরণের আবহাওয়ায় খেলে অভ্যস্ত নন।
জানা গেছে, উচ্চতাজনিত এই সমস্যা কমাতে ইংল্যান্ডের মেডিকেল টিম বেশ কিছু পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছে, যার মধ্যে অনুমোদিত একটি বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে ‘ভায়াগ্রা’র নাম।
এই ওষুধটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে পারে এবং উচ্চতায় কম অক্সিজেনের কারণে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতাগুলো উপশম করতে পারে।
নিজেদের ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর রেকর্ড এক কথায় দুর্দান্ত। এখানে খেলা ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র ২টি ম্যাচে হেরেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ পরাজয়টি এসেছিল ২০১৩ সালে।
এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ ফর্মে আছে বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক এই দেশটি। এখন পর্যন্ত খেলা ৪টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নামবে তারা।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড তাদের এই বিশ্বকাপ অভিযানে এখনো পর্যন্ত খুব একটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি, তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার দারুণ মানসিকতা দেখিয়েছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ে দলের বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেলেও অধিনায়ক হ্যারি কেইনের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোল থ্রি লায়ন্সদের উদ্ধার করে।
ভায়াগ্রা ব্যবহারে নিয়মের বাধা নেই
যৌন অক্ষমতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ওষুধটি বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা কর্তৃক নিষিদ্ধ নয়। ফলে অ্যাথলেটরা প্রতিযোগিতার ভেতরে বা বাইরে এটি ব্যবহার করতে পারেন। রক্তনালী ও রক্ত সঞ্চালনের ওপর এর প্রভাবের কারণে বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা বছরের পর বছর ধরে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছে।
তবে দীর্ঘ গবেষণার পরও এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সমুদ্রপৃষ্ঠ বা তার কাছাকাছি উচ্চতায় এই ওষুধটি পারফরম্যান্স বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো সুবিধা দেয়। এর মূল কার্যকারিতা কেবল বেশি উচ্চতার ভেন্যুগুলোতে কম অক্সিজেনের সঙ্গে অ্যাথলেটদের মানিয়ে নিতে সাহায্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ফলে ইংল্যান্ড শিবিরের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারের যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল মেক্সিকো সিটির উচ্চতাজনিত প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য নেওয়া হবে, কোনো অনৈতিক বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়।

