বয়সভেদে কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সুস্থ থাকতে একটা সময় বয়সের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। কারণ কোন বয়সে কী পরীক্ষা জরুরি, তা নিয়ে সচেতনতা খুব কম মানুষের থাকে। কিন্তু একটা সময় বয়স হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে প্রয়োজন পড়ে।
চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তের শর্করা, কোলেস্টেরল এবং লিভার-কিডনি ফাংশন টেস্ট করা প্রয়োজন হয়। ৪০ পেরিয়ে গেলে ইসিজি, স্ট্রেস টেস্ট এবং ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মতো অতিরিক্ত পরীক্ষা করা জরুরি বলে পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
আপনার শরীরে রোগ হঠাৎ করে আসে না। তার লক্ষণ আগে থেকেই ফুটে ওঠে শরীরে। অথচ ব্যস্ত জীবনে তা দেখেও এড়িয়ে যাওয়া হয় অনেক সময়েই। পরে সেসব ছোটখাটো উপসর্গও জটিল রোগ হয়ে ধরা পড়ে। তাই আপনি সুস্থ থাকতে এবং যে কোনো রকম জটিল রোগ ও মারণব্যাধি থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট বয়সের পরেই কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ফেলুন। কারণ নিশ্চিন্ত হন আপনার শরীরের গতিবিধি কোন দিকে যাচ্ছে।
আপনার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধমূলক পরীক্ষা বা প্রিভেন্টিভ স্ক্রিনিং করানো ভীষণ জরুরি হয়ে পড়ে।— এমনই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানাচ্ছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অনেক কম বয়সে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং প্রস্টেটের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের হরমোনজনিত রোগও দেখা দিতে পারে। তাই সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, বয়স ৩০ পেরোলে যে পরীক্ষা করাবেন—
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, বয়স ৩০ পেরোলে সবার আগে ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও এইচবিএ১সি পরীক্ষা করানো উচিত। প্রি-ডায়াবেটিস কিনা, তা ধরা পড়বে এ পরীক্ষায়। আর লিপিড প্রোফাইল বা কোলেস্টেরলের পরীক্ষা করা জরুরি। এতে হৃদরোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে।
১৮ বছর পেরোলেই সময়ান্তরে রক্তচাপের পরীক্ষা করিয়ে রাখতে হয়। কারণ ১৮ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। আর নারীদের বয়স ২১ পেরোলেই প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করাতেই হবে। প্রতি তিন বছর অন্তর এ পরীক্ষা করিয়ে নিলে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার একেবারে প্রাথমিক পর্বে ধরা পড়লে তার নিরাময় সম্ভব।
বয়স ৪০ পেরোলে যে পরীক্ষা করাবেন—
আপনার বয়স ৪০ পেরোলে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করাতেই হবে। রক্তের এটিই প্রাথমিক পরীক্ষা। যে কোনো অসুখেই করতে বলা হয়, তা অনেকেই জানেন না। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে রক্তের ক্যানসার লিউকিমিয়া বা লিম্ফোমাও ধরা পড়ে। আর থাইরয়েড প্যানেল টেস্ট জরুরি। ওই বয়সে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং থাইরয়েডের সমস্যা বেশি ভোগাতে পারে। এ ছাড়া গ্লকোমা টেস্ট করিয়ে রাখা ভালো। দৃষ্টিশক্তি ঠিক আছে কিনা, রেটিনায় রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, তা আগে থেকে জেনে রাখা ভালো।
৪০ পেরোলে নারীদের ম্যামোগ্রাম টেস্ট করানো উচিত। স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে এ পরীক্ষা খুবই জরুরি। ম্যামোগ্রাম হলো বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা স্তনের কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তার রিপোর্ট দিতে পারে। স্তনের ভেতর গজিয়ে ওঠা মাংসপিণ্ড বা টিউমার শনাক্ত করতেও এ পরীক্ষাটি জরুরি।
৬০ পেরোলে যে পরীক্ষা করাবেন—
৬০ পেরোলে অবশ্যই ‘বেসিক স্কিন ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট’ করে রাখা ভালো। এই বয়সে মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আর প্রস্টেটের সমস্যা এ বয়সেই বেশি দেখা যায়। তাই ‘পিএসএ টেস্ট’ বা ‘প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন টেস্ট’ করিয়ে রাখলে প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার আগেই তা ধরা পড়বে।
এ ছাড়া আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের শিকার এখন অনেকেই। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। যদি আইবিএস থাকে, তাহলে খাদ্যনালিতে টিউমার আছে কিনা, তা পরীক্ষা করিয়ে রাখা ভালো। সে জন্য কোলোনোস্কোপি করাতে হবে। আর হার্টের রোগ থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে। না হলে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম, করোনারি অ্যানজিওগ্রাম, করোনারি ক্যালশিয়াম স্কোরিং আর ক্ষেত্রবিশেষে এমআরআই করিয়ে রাখা ভালো।

