img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর পাকিস্তান এখন ইরান থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনার কথা বিবেচনা করছে। রোববার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এ কথা জানিয়েছেন।

লাহোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, এপ্রিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের চরম পর্যায়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম লিটারপ্রতি ৪৬০ রুপিতে পৌঁছেছিল। তবে এরপর থেকে বিশ্ববাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

গত ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে ওয়াশিংটন ও তেহরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ স্বাক্ষর করে। এ চুক্তিতে মূলত পাকিস্তানই মধ্যস্থতা করেছিল।

এ চুক্তির আওতায়, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এর উপজাত রপ্তানিসহ এ সংক্রান্ত ব্যাংকিং লেনদেন, বিমা ও পরিবহণের মতো সব পরিষেবার ক্ষেত্রে মার্কিন অর্থ দপ্তরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলী পারভেজ মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাৎক্ষণিকভাবে এ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। ভোক্তাদের যে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববাজারে দাম কমার হারের চেয়েও বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার যে সুবিধা দিয়েছে, আমরা জনগণকে তার চেয়েও বেশি সুবিধা দিয়েছি’।

মন্ত্রী জানান, সরকার পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। প্রতিটি পাকিস্তানি নাগরিককে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কঠিন সময় অল্প সময়ের জন্যই থাকে—সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত, সেই সময় কেটে গেছে এবং ভালো দিন আসছে’।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আরও কমানোর বিষয়ে সরকার সক্রিয় রয়েছে। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক চুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকে বিশ্ববাজার স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে দাম আরও কমানো হবে।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর খবর নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এ বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তেল কোম্পানিগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

মালিক বলেন, স্বচ্ছতা আনতে এবং ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউয়ের (এফবিআর) উদ্বেগ দূর করার লক্ষ্যে তিনি নিজের টেক্সটাইল মিলগুলোতে ক্যামেরা বসিয়েছেন। একই কারণে তিনি জিনিং কারখানাগুলোতেও (তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা) ক্যামেরা বসানোর আহ্বান জানান।

এ ছাড়া স্থগিত থাকা আরএলএনজি (RLNG) গ্যাস সংযোগগুলো শিগগিরই পুনরায় চালু করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

 

এই বিভাগের আরও খবর