img

বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌনতায় মেতে উঠার জন্য ফুটবলারদের পরামর্শ দিচ্ছেন কুরাসাওয়ের নারী ডাক্তার সুজান হুরমান। ইকুয়েডর ম্যাচের আগে তার এমন পরামর্শে সাফল্য পেয়েছে আফ্রিকার দলটি।

বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোলে হেরে যায় কুরাসাও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে কামব্যাক করে তারা। এই বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করেছে কুরাসাও। গোলকিপার এলয় ভিক্টর রুম ১৫টি গোল সেভ করে নজির গড়েছেন। তার নেপথ্যে কি বান্ধবীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত?

দলের নারী ডাক্তার হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী কোচ ডিক অ্যাডভোকেট প্লেয়ারদের সঙ্গে তার বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ইটালির কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।

কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে। 

হুরমান বলেন, ‘প্লেয়াররা তাদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি রুম দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তারা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।’

তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

হুরমান বলেন, ‘আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।’

হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট সংগ্রহ তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশটি। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।

এই বিভাগের আরও খবর