img

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ডানপন্থী প্রার্থী আবেলান্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় নাটকীয় জয় লাভ করেছেন। কোনো পূর্ব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা এই ব্যবসায়ী ও আইনজীবী কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত ও অপরাধ দমনে কঠোর সামরিক অভিযানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন। 

তার এই জয় দেশটির রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদাকে অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, দে লা এসপ্রিয়েলা প্রায় ৪৯.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সেপেদা পেয়েছেন ৪৮.৮ শতাংশ ভোট। 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ফলাফলের পর দে লা এসপ্রিয়েলা তার নিজ শহর বারানকিলার উপকূলীয় অঞ্চলে এক বিশাল জনসমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ থেকে দেশের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো, যা লক্ষ লক্ষ নাগরিকের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। নিজেকে ‘এল তিগ্রে’ বা ‘দ্য টাইগার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা এই নেতা ঘোষণা করেন যে তিনি সব কলম্বিয়ানদের জন্যই শাসন করবেন এবং দেশটির ১৯৯১ সালের সংবিধান রক্ষা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে নির্বাচনের এই প্রাথমিক ফল ঘোষণার পর কলম্বিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বারানকিলায় দে লা এসপ্রিয়েলার সমর্থকেরা কলম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে এবং ট্রাম্পের আদলে ‘মেক কলম্বিয়া গ্রেট এগেইন’ লেখা টুপি মাথায় দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। 

অন্যদিকে, বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদা এখনই পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার মতে, প্রাথমিক এই গণনা এখনও আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত নয় এবং চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পরেই তারা আনুষ্ঠানিক ফলাফল মেনে নেবেন। দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোও এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি ভোটদানের সফটওয়্যার অডিট করার দাবি তুলেছেন এবং কিছু ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।

নির্বাচনী ফলাফলের এই চরম মেরুকরণের ফলে দেশজুড়ে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে। তবে রাজধানী ও অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে সেপেদার সমর্থকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকা আবেলান্দো দে লা এসপ্রিয়েলাকে নির্বাচনের আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তার এই জয়কে ‘বিরাট জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কলম্বিয়ার ইতিহাসে মাদক চোরাচালান, অবৈধ খনি এবং সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য এক বড় সংকট।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি আলোচনার নীতি ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে দে লা এসপ্রিয়েলা সব ধরণের আলোচনা বাতিল করে আমাজন জঙ্গলে মেগা-প্রিজন বা বিশাল কারাগার নির্মাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ সামরিক অভিযানের অঙ্গীকার করেছেন। লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার যে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, কলম্বিয়ার এই নির্বাচনকে তারই একটি বড় অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

এই বিভাগের আরও খবর