img

উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে—শুনতে হয়তো একপেশে লড়াই মনে হতে পারে। এই ম্যাচের ভেতরে লুকিয়ে আছে দুই রকম স্বপ্নের গল্প। একদিকে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপের আলোয় উঠে আসা এক ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের নয়, মর্যাদা, বিশ্বাস আর টিকে থাকার লড়াইও।

বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে কখনো ইতিহাস জিতে যায়। কখনো স্বপ্ন। আকাশি উরুগুয়ে কি আবার নিজেকে প্রমাণ করবে? নাকি সমুদ্রপাড়ের ছোট্ট দেশটি লিখে ফেলবে আরেকটি অসম্ভব গল্প।

১৯৩০ আর ১৯৫০ সালের শিরোপা উরুগুয়ের জাতীয় আত্মমর্যাদার অংশ। এখানে ফুটবল ইতিহাস, সংস্কৃতি আর জাতীয় গর্বের আরেক নাম। মন্টেভিডিওর রাস্তায় বড় হওয়া শিশুরা ছোটবেলা থেকেই জানে, আকাশি জার্সি শুধু পরার নয়, বহন করার দায়িত্বও আছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে উরুগুয়ের নাম উচ্চারণ হলেই ফিরে আসে মারাকানার সেই বিকালের স্মৃতি। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া মুহূর্তের পর বহু দশক কেটে গেছে। প্রজন্ম বদলেছে। কিন্তু প্রত্যাশা বদলায়নি। প্রতিটি বিশ্বকাপে উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের কাঁধে বর্তমানের চাপের সঙ্গে থাকে অতীতের স্মৃতিও। যদিও বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল অপ্রত্যাশিত। সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করার পর এখন আর ভুলের জায়গা নেই। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি পয়েন্ট শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ।

উরুগুয়ের বর্তমান দলটি অভিজ্ঞতা আর তরুণ শক্তির মিশ্রণ। মাঝমাঠে ফেদেরিকো ভালভার্দে সেই ছন্দ তৈরি করেন যেখান থেকে আক্রমণের জন্ম হয়। দারউইন নুনিয়েস সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন গোলের অপেক্ষায়।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা যেতে পারে। বলের নিয়ন্ত্রণ, উইং দিয়ে দ্রুত প্রেসিং হতে পারে উরুগুয়ের প্রধান অস্ত্র।

অন্যদিকে কেপ ভার্দের ফুটবল সবচেয়ে সুন্দর কবিতাগুলোর একটি। আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলের ছোট্ট দ্বীপদেশ। জনসংখ্যা সীমিত। ফুটবল অবকাঠামোও তেমন নেই।

প্রথম ম্যাচেই তারা স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে। পুরো বিশ্বের নজর তাদের সাহসের দিকে। তারা বল কম পেয়েছে, কিন্তু বিশ্বাস হারায়নি। প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স ছিল অসাধারণ।

একজন সুপারস্টার নেই, আছে একদল ঐক্যবদ্ধ খেলোয়াড়। যারা নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে খেলতে রাজি। গোলকিপার ভোজিনিয়া হয়ে উঠেছেন দলের প্রতীক। অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি রক্ষণকে নেতৃত্ব দেন। ফরোয়ার্ডরা নির্ভার থাকেন, শেষ প্রাচীর হিসেবে একজন আছেন যিনি শেষ পর্যন্ত লড়বেন।

কেপ ভার্দের আক্রমণকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত পালটা আক্রমণ, পরিশ্রমী ফুটবল খেলে তারা উরুগুয়েকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। উরুগুয়ের আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে পালটা আক্রমণে গোল আদায়ের চেষ্টা করবে কেপ ভার্দে।

উরুগুয়ের কাছে ম্যাচটি মর্যাদা রক্ষার ম্যাচ হলেও কেপ ভার্দের কাছে ইতিহাস লেখার ম্যাচ।

ম্যাচ যত এগোবে, তত বাড়বে চাপ। শুরুতে গোল না পেলে উরুগুয়ের অস্থিরতা বাড়বে। সময় যত গড়াবে, কেপ ভার্দের বিশ্বাসও তত বড় হবে।

এই বিভাগের আরও খবর