তৃণমূল থেকে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী অঙ্গন: রাশেদ সরকারের পথচলা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত দেড় দশকের বেশি সময় ছিল বিরোধী রাজনীতির জন্য নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার সময়। এই সময়ে অনেকেই রাজনীতির দৃশ্যমান অংশে সক্রিয় ছিলেন, আবার কেউ কেউ নীরবে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে মনোযোগ দিয়েছেন। রাশেদ উল হক সরকার তাদেরই একজন, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে তরুণ ও পেশাজীবীদের সংগঠিত করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বিএনপিপন্থী তরুণ পেশাজীবীদের সংগঠন ‘ফোরাম অব ইয়াং প্রফেশনালস’-এর অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময়ে পেশাজীবী ও তরুণ সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে আলোচনা, সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি তরুণদের মধ্যে নীতিনির্ভর রাজনীতির চর্চা জোরদার করার চেষ্টা করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যখন নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি ছিল, তখন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী ও বিভিন্ন পেশার তরুণদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন তিনি। জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও আলোচনা সভাগুলোতে নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং পেশাজীবীদের অধিকার নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে জাতীয় বিতর্কের সময় রাশেদ সরকারের সম্পৃক্ততায় তরুণ পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমত তৈরির এসব উদ্যোগ সে সময় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল।
মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতেও রাশেদের সক্রিয়তা ছিল ধারাবাহিক। ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন মাঠকর্মী সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
দলের সংকটকালীন সময়েও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন রাশেদ। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থানীয় পর্যায়ে তাকে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাশেদ সরকারের রাজনৈতিক পথচলার পেছনে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্য। তার বাবা রেজাউল হক সরকার রানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম সংগঠক এবং অবিভক্ত রাজশাহী বিভাগের প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার মা-ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার পরিচয় শৈশব থেকেই।
দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ‘জেড ফোর্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক সফর ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে রাশেদের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সাংগঠনিক সফরেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সেমিনার এবং বিভিন্ন মতবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূলনীতি এবং দলের নীতিগত অবস্থান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রচারণার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির ধারণা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

