img

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলসহ সিরিয়া এবং গাজা উপত্যকায় দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল।

সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করেই লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান বজায় রাখা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের এই কঠোর অবস্থানের কথা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। একই বার্তা তিনি নিজে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকেও পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানান।

লেবানন পরিস্থিতির জের ধরে ইরান যদি ইসরাইলে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন কাটজ।

এদিকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও এই মার্কিন-ইরান চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তি তেল আবিবকে কোনোভাবেই দায়বদ্ধ করে না।

এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই চুক্তি ঘোষণার পরও আজ সোমবার দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। লেবাননের সরকার জানায়, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৩,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১১,৫০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১৫ লক্ষাধিক মানুষ।

এই বিভাগের আরও খবর