নোরা ফাতেহি কেন মরক্কোকে সমর্থন দিলেন?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সুযোগ পান বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। সেই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করেননি। উদ্বোধনী ফুটবল মঞ্চ মাতিয়ে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। এমন সুযোগকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলে মনে করেন তিনি।
কানাডা পর্বে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে ঝড় তুলেছেন তিনি। শুধু পারফরম্যান্সের কারণেই নয়, আজকের ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ ঘিরেও আলোচনায় অভিনেত্রী।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জনপ্রিয় নোরা ফাতেহি। কারণ বিশ্বকাপে তার দল মরক্কো। কানাডায় বেড়ে ওঠা অভিনেত্রীর মরক্কোকে আলাদা করে সমর্থনের পেছনে হাকিমির নামই উঠে এসেছে বারবার।
ব্রাজিল-মরক্কোর ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই নোরা ফাতেহির কিছু ছবি ও তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে জোর চর্চা চলছে। ব্যক্তিগতভাবে মরক্কোর ডাই হার্ড ফ্যান নোরা ফাতেহি, যার নেপথ্যে রয়েছে তার চর্চিত প্রেমিক মরক্কো ফুটবল দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক নানা ঘটনা বিভিন্ন জল্পনা উসকে দেয়।
এর আগে ২০২৫ সালের আফকন টুর্নামেন্টেও মরক্কোর একটি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন নোরা ফাতেহি। সেই থেকে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে— নিজের নতুন প্রেমিককে সমর্থন করতেই স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী, যিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার।
ভিন্ন এক সূত্র বলছে, নোরা ফাতেহির নাকি মরক্কোর সঙ্গে শেকড়ের টানও রয়েছে। আশরাফ হাকিমি ও নোরা উভয়েরই শেকড় মরক্কোয়, যা তাদের এ গুঞ্জনকে ভক্তদের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
আশরাফ হাকিমির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি নোরা ফাতেহির। তবে সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর এই স্বভাবসুলভ প্রতিক্রিয়া হাকিমির সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনকে ভক্তদের মাঝে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের এই চর্চার মাঝেই নোরা ফাতেহির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দারুণ আলোচনায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় ও ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিমকে নিয়ে তৈরি তার ফিফা বিশ্বকাপ অ্যান্থেম 'সির সির' বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে। নোরার মতে, এ প্রজেক্টটি তার হৃদয়ের খুব কাছের এবং এটি নিছক কোনো সাধারণ পারফরম্যান্স ছিল না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরা ফাতেহির ‘সির সির’ গানটি অর্থ হচ্ছে— এগিয়ে চলা। তবে তার এই গানের অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছেন আফ্রিকার মরক্কোয় ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে।
অভিনেত্রী বলেন, ওই ম্যাচগুলোর সময় আমি স্টেডিয়ামে প্রায় প্রতিটি খেলাতেই দেখতাম ৭০ হাজার দর্শককে ‘সির সির’ স্লোগান দিতে। এ স্লোগানে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। এর পরেই আমি আমার প্রযোজক সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং এ স্লোগানটি ব্যবহার করে একটি বিশ্বকাপ সংগীত তৈরি করতে অনুরোধ করেছিলাম তাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নোরা ফাতেহি বলেন, বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা তার শিল্পীসত্তাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, যখন বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্নধর্মী সুর এবং শিল্পচর্চা এক জায়গায় মিলিত হয়, তখনই বোঝা যায়— মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে সংগীত কতটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

