মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা,
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে নতুন সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। খবর এনডিটিভির।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, যা একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে এক্সিওস–এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন ইরানের সংশোধিত প্রস্তাব আগের তুলনায় কোনো বড় অগ্রগতি নয় এবং তা যথেষ্ট নয়।
এ বিষয়ে ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি ইরানের কাছে কোনো ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নন। তার দাবি, ইরান ভালোভাবেই জানে সামনে কী হতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিরক্ত নই, তবে ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চুক্তি করতে চায়, কারণ তারা জানে সামনে কী হতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সংঘাত
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এটি স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স–এর গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, আগের দফায় ইরান দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং সে কারণে ধীরে ধীরে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধকে দ্রুত কিন্তু ভয়াবহ আকারে দেখতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে ইরানের জ্বালানি খাত, তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজির মতে, নতুন সংঘাতে ইরান প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
তাছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের তেল স্থাপনা, পরিশোধনাগার ও বন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
ইরানপন্থী এক বিশ্লেষক মেহদি খারাতিয়ান মন্তব্য করে বলেন, প্রয়োজন হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অতীতের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে—এমনকি আবুধাবি দখলের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। যদিও এসব বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি বাড়লে এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া বাব এল-মান্দেব প্রণালীও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে, যা লোহিত সাগর ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে
সম্প্রতি তেহরানে সাধারণ নাগরিকদের জন্য অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর মতো দৃশ্য দেখা গেছে, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

