মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহার করবে কি ইরান হরমুজে ‘?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে ইরান ‘ডলফিন’ ব্যবহার করতে পারে—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা পিট হেগসেথ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইরানের কাছে কোনো ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ আছে—এমন তথ্য তিনি নিশ্চিত করতে পারেন না।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ডলফিন আছে কি না, সেটিও তিনি ‘নিশ্চিত বা অস্বীকার’ করতে চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের এমন কোনো সক্ষমতা নেই বলে তার ধারণা।
গত ৩০ এপ্রিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সামরিক কাজে ডলফিন ব্যবহার করে আসছে। মার্কিন নেভির ‘মেরিন ম্যামাল প্রোগ্রাম’ অনুযায়ী, বোতলনোজ ডলফিন ও সমুদ্র সিংহ পানির নিচে মাইন শনাক্ত ও উদ্ধার করার কাজে প্রশিক্ষিত। তবে এগুলো কোনোভাবেই আত্মঘাতী বা হামলাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডলফিনদের অত্যন্ত উন্নত সোনার ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্ধকার বা ঘোলা পানিতেও বস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করে। এই কারণেই তারা পানির নিচে মাইন শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
রাশিয়া অতীতে বন্দর নিরাপত্তায় সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। তবে ইরান ২০০০ সালে ডলফিন সংগ্রহ করলেও বর্তমানে তাদের কোনো সক্রিয় সামরিক ডলফিন কর্মসূচি আছে—এমন প্রমাণ নেই।
সব মিলিয়ে ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহারের ধারণাটি এখনো নিশ্চিত তথ্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত একটি সম্ভাব্য ও বিতর্কিত দাবি হিসেবে রয়ে গেছে।

