img

সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) প্রকল্প ঘিরে গত দেড় দশক ধরে একটি বিশেষ মহলের সিন্ডিকেট ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA) তথা সাবেক সিপিটিইউ-এর এই সেবাটি মূলত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কব্জায় রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘দোহাটেক নিউ মিডিয়া’ এবং এর কর্ণধার এ কে এম সামসুদ্দোহা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্যের পেছনে খোদ বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি’র (BPPA) একাধিক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দোহাটেকের কাছ থেকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে এই কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে দিনের পর দিন কাজ পাইয়ে দিতে নীতিবহির্ভূতভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। সরকারি বিধিমালা ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার তোয়াক্কা না করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি গত ১৬ বছর ধরে চলছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

দোহাটেকের মালিক এ কে এম সামসুদ্দোহা বিগত সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যবসায়িক অংশীদার। এছাড়া সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ছিলেন সামসুদ্দোহার আপন ফুফাতো ভাই। এই শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়কে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাংকের নীতিমালা এড়িয়ে ‘eGP STAR’ নামক নতুন সত্তা তৈরি করে বারবার একই কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু ই-জিপি নয়, আইএমইডি বিভাগের ePMIS প্রকল্পেও দোহাটেক ও বেক্সিমকোর যৌথ সংশ্লিষ্টতা ছিল, যেখানে পরবর্তীতে বেক্সিমকোকে বাদ দিয়ে এককভাবে দোহাটেককে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আসা অভিযোগগুলো আরও ভয়াবহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দোহাটেকের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাজমুল হোসেন তার নিকটাত্মীয়দের নিয়ে প্রকল্পে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নাজমুল ও তার ভায়রা রকিবুলের হাতেই থাকে ই-জিপির ডেটাবেজের অত্যন্ত সংবেদনশীল পাসওয়ার্ড। তারা ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যালগরিদমে হস্তক্ষেপ করে টেন্ডারের গোপনীয় দরপত্র ফাঁস করে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই অবৈধ আয়ে নাজমুল হোসেন ঢাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও তথ্যে প্রকাশ।

সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিংয়ের নামে ‘গিগাটেক লিমিটেড’-এর মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটিও এখন সামনে আসছে। এদিকে আগামী জুন ২০২৬-এ বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠীটি পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য নেপথ্যে তৎপরতা শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল ক্রয় প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও দক্ষ পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ