মেকআপ ছাড়াই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন ফারিণ
ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে ইতোমধ্যে বড়পর্দায় নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। তার অভিনীত ‘ফাতিমা’, ‘ইনসাফ’ ও শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিনয় ছাড়াও নানা ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকেন তিনি।
সম্প্রতি এই অভিনেত্রী নিজের সাজসজ্জা, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফারিণ শুরুতেই ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় মেকআপ নিয়ে আমার তেমন কোনো আগ্রহের জায়গা ছিল না। বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে কখনো মায়ের লিপস্টিক ব্যবহার করতাম, এর বাইরে আমার ড্রেসিং টেবিলে থাকত শুধু একটি চিরুনি আর পারফিউম। সত্যি বলতে, মেকআপ করার প্রয়োজনও কখনো অনুভব করিনি।’
তবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করার পরই মূলত প্রসাধনীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে বলে জানান। দীর্ঘ সময় গ্ল্যামার জগতে কাটানোর পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, নিজের আসল চেহারায় থাকতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।
অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে ফারিণ উল্লেখ করেন, শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময় নিখুঁত ও পরিপাটি দেখানোর একটি অদৃশ্য চাপ কাজ করে। নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে বা গ্ল্যামারাস লুকে উপস্থাপনের এই তাগিদ অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, নতুন নতুন লুক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে তার ভালো লাগলেও, ব্যক্তিগত জীবনে কিংবা ভ্রমণের সময় তিনি একদম মেকআপ ছাড়া বা খুব হালকা সাজে থাকতেই পছন্দ করেন।
নিজের আত্মবিশ্বাস ও স্বাচ্ছন্দের কারণে মেকআপের জায়গা থেকে ফারিণ বেরিয়ে আসতে চাইছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কাজের জায়গায় এসে যেন সেই অনুভূতিটা বদলে যায়। নিখুঁত দেখানোর একটা চাপ থাকে, নিজেকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করার একটা অদৃশ্য তাগিদ কাজ করে। আমি এখন ঠিক করেছি, এই চাপ থেকে বের হয়ে আসব।’
পোস্টের শেষাংশে এ অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘এখন থেকে আমি ঠিক যেভাবে নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বোধ করি, সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করব। নিজের সঙ্গে না মেলে এমন কিছু আর জোর করে করতে চাই না। আর হ্যা, আমি শুধু মেকআপের কথাই বলছি না, এর বাইরেও অনেক কিছুই বোঝাতে চেয়েছি।’

