সাবেক ‘বিউটি কুইনকে’ গুলি করে হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
মেক্সিকোর সাবেক বিউটি কুইন ক্যারোলিনা ফ্লোরেস গোমেজ হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত ক্যারোলিনার স্বামী পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, খুনের পর তিনি স্ত্রীর মৃতদেহ থেকে তাদের সন্তানকে স্তনদুগ্ধ পান করানোর চেষ্টা করেছিলেন।
২০১৭ সালে ‘মিস টিন ইউনিভার্স বাজা ক্যালিফোর্নিয়া’ খেতাবজয়ী ক্যারোলিনাকে গত ১৫ এপ্রিল মেক্সিকো সিটিতে খুব কাছ থেকে মুখে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউটরদের মতে, এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ক্যারোলিনার শাশুড়ি এরিকা মারিয়া হেরেরা। অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি তার ছেলে অর্থাৎ ক্যারোলিনার স্বামীর সঙ্গেই ওই বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই এরিকা পলাতক রয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর পুলিশকে জানাতে বিলম্ব হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার দিন রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও ক্যারোলিনার স্বামী আলেজান্দ্রো পরদিন পুলিশকে খবর দেন। ক্যারোলিনার মা রেইনা গোমেজ মোলিনার অভিযোগ, ঘাতক মাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই আলেজান্দ্রো দীর্ঘ সময় লাশ ঘরে আটকে রেখেছিলেন।
তবে আলেজান্দ্রো কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন, ক্যারোলিনা তার সন্তানকে স্তন্যদান করতেন। তাই মৃত্যুর পর তিনি মৃতদেহ থেকেই শিশুকে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ছাড়া সন্তানকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের (সোশ্যাল সার্ভিস) হেফাজতে নেওয়ার ভয়ে তিনি পুলিশকে জানাতে দেরি করেছেন বলেও দাবি তার। তদন্তকারীরা এখনো এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোটি কোটি টাকার উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির লোভ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে বাবা জর্জ ফ্লোরেসের মৃত্যুর পর ক্যারোলিনা বিপুল সম্পত্তির মালিক হন। পরিবারের দাবি, সম্পত্তির নথিপত্রে সই করার সময় শাশুড়ি এরিকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সান ডিয়েগোতে জন্ম নেওয়া ক্যারোলিনা মেক্সিকোর এনসেনাডায় বেশ কয়েকটি সুন্দরী প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছিলেন। বর্তমানে মেক্সিকো সিটির অভিজাত পোলানকো জেলায় এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আলেজান্দ্রোকে এখনো গ্রেফতার করা না হলেও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এবং খবর দিতে দেরি করার কারণে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

