নীরবতা ভেঙে কঠিন যে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সেনাবাহিনী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি কুফর ও দাম্ভিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বর্তমান সংঘাতকে ইরানের বিপ্লবী ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিত্রায়িত করেন।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সেনাবাহিনী তথাকথিত দুই শত্রুপক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শক্তির দুর্বলতা ও অবমাননা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।
মুজতবা খামেনি তার বার্তায় ইরানি বাহিনীর সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে বলেন, সেনাবাহিনীর ড্রোনগুলো আমেরিকান ও জায়নবাদী অপরাধীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানছে। সেই সঙ্গে দেশটির নৌবাহিনী শত্রুদের নতুন পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তার মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই এই সেনাবাহিনী জনগণের হৃদয়ের স্পন্দন ও জাতির প্রকৃত সন্তান হিসেবে নিজের যোগ্য স্থান দখল করে নিয়েছে।
বর্তমান যুদ্ধকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনামল কর্তৃক ইরানের মহান জাতির ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই বার্তায় তিনি তার পূর্বসূরি এবং আততায়ীর হাতে নিহত পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপ্লবের প্রথম দশক থেকেই তার পিতা সেনাবাহিনীর সুরক্ষা ও এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে তার পিতা নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত মুজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বার্তার শেষাংশে তিনি এই চলমান যুদ্ধে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

