img

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের বিলাসবহুল প্যালেসে বসেছিল দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার বিয়ের আসর। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বিয়ে সারেন তারা। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নেন 'বীরোশ'। 'পুষ্পা'র বিয়ের ছবি সবার মন ভেঙেছিল ঠিকই; তবে তাদের বিয়ের ছবি ও সাজগোজ নিয়ে আজও চর্চার যেন শেষ নেই।

বিয়ে থেকে শুরু করে রিসিপশন– প্রতি ক্ষেত্রেই সাজসজ্জায় সেলিব্রেটি দম্পতিদের নিজেদের সংস্কৃতির ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। আর সে কারণেই তাদের সাজসজ্জা যেন অন্য মাত্রা রূপ পায়। শরীরভর্তি গহনা। খোলা চুল। সিঁদুরে লাল রঙের শাড়ি। চওড়া পাড়। ভারি কাজের ব্লাউজ। বিয়েতে যেন স্বর্গের দেবীর মতো সেজেছিলেন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। অভিনেত্রীর বিয়ের সাজ দেখে মুগ্ধ হননি—এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। বেশ কয়েক দিন ধরেই তার সাজ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে যথেষ্ট। অন্যদিকে সেই ব্যতিক্রমী বিয়ের সাজে চমক দিয়েছিলেন অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডাও। 

আর এ সাজগোজে মূল ভূমিকা ছিল তনভি চেমবুরকারের। তিনিই হলেন রূপটান শিল্পী। সম্প্রতি একটি পডকাস্টের এক সাক্ষাৎকার দিতে দেখা গেছে তাকে। রাশমিকা মান্দানাকে বিয়ের সাজ সাজানোর অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে শেয়ার করে নেন তনভি। মাত্র ৪০ মিনিটে নাকি একেবারে নববধূ হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী।

তনভি বলেন, রাশমিকা আনন্দে যেন ঝলমল করছিল। বিয়ের আগের সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠান ছিল ওর। সুতরাং সেভাবে ঘুমাতে পারেনি। আমাদের বলেছিলেন— সাজানোর জন্য মাত্র ৪০ মিনিট সময় পাবেন। তবে আমরা ঘণ্টাখানেক সময় নিয়েছিলাম।

এ রূপটান শিল্পী বলেন, একেবারে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তৈরি হতে রাশমিকা সব মিলিয়ে দেড় ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু রাশমিকা খুবই খুশি হয়েছিলেন। এমনকি যখন বিয়ের পর হেঁটে আসছিল, ওর চোখেমুখে যেন আনন্দের ঝিলিক দেখা গিয়েছিল। আর সে কারণে এত সুন্দর লাগছিল অভিনেত্রীকে।

যতই তাড়াহুড়ো থাক না কেন। সাজগোজের ক্ষেত্রে বিয়ের নিয়মরীতি মানতে ভোলেননি সেলিব্রিটি যুগল বলে জানিয়েছেন তনভি। তাদের মেকআপ খুঁটিয়ে দেখলে চোখে পড়ে—বর-বউ দুজনের গালেই একরত্তি কালো টিকা। প্রথম দর্শনে যা তিল ভেবে ভুল হয়ে যায়! ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে কিন্তু গালে এমন কালো টিকা এঁকে দেওয়া অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। বিশেষত বিয়ের সাজের এ এক অবিচ্ছিন্ন অঙ্গই বলা চলে।

রাশমিকা মান্দানার বিয়ের সাজ এত ভাইরাল তা কখনো আশাই করেননি বলে জানিয়েছেন তনভি চেমবুরকার। অভিনেত্রী নাকি তনভিকে বারবার বলেছেন— মেকআপ যেন কোনোভাবেই উগ্র না হয়ে যায়। অর্থাৎ তিনি যেমন, তেমনই যেন দেখতে লাগে বিয়ের সাজে। সেই মতো কাজ শুরু করেন তনভি। বেস মেকআপের পরই চোখসজ্জার কাজ শুরু করেন তিনি। রাশমিকার চোখ এতই সুন্দর যে আর বিশেষ সাজানোর প্রয়োজন পড়েনি বলেই জানান এ রূপটান শিল্পী।

তিনি বলেন, শুধু বিয়েই নয়; যে কোনো ইভেন্টে যাওয়ার আগেও রাশমিকার সাজগোজের দায়িত্ব নেন তিনি। রাশমিকার সঙ্গে কাজ করে খুবই খুশি তিনি। রাশমিকার উচ্ছলতাই তাকে আরও বেশি মোহময়ী করে তোলে বলেই জানান তনভি।

বিয়েতে গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন বিজয়-রাশমিকা। 'বীরোশ' ছাড়া অন্য কেউ যাতে ছবি ভাইরাল করতে না পারেন, সেদিকে সবার নজর ছিল। সে কারণে অভিনেত্রীকে সাজানোর সময় 'নো ফোন পলিসি' মেনে চলেন রূপটান শিল্পী তনভিও। সাজগোজ করানোর পর দুজনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। বহুদিন পর কারও বিয়ের অনুষ্ঠানে এতটা মজা করেন বলেই জানান এ রূপটান শিল্পী।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ