img

শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে অভিনয়ের বিনিময়ে আলোচিত সেই জমি পাননি ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। 

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। তার ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই, ব্যক্তিগত জীবনের বিয়োগান্তক ঘটনা এবং বহুল আলোচিত 'মুজিব' সিনেমা নিয়ে নানা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন আরিফিন শুভ।

শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য মাত্র ১ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শুভ। পরবর্তীতে গুঞ্জন ওঠে, বিনিময়ে তিনি সরকারের কাছ থেকে পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট উপহার পেয়েছেন। 

এ বিষয়ে শুভ বলেন, আমাকে কোনো জমি দেওয়া হয়নি। আমি কেবল আবেদন করেছিলাম, যা আরও ১৫১ জন শিল্পী করেছিলেন। ১ টাকা নিয়েছিলাম বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের প্রতি আবেগ থেকে, আর আবেদনটি ছিল ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই জমির কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, আমি সেখানে যাইওনি।

২০২৪ সালকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় অভিহিত করে শুভ জানান, এই বছরেই তিনি তার সবচেয়ে কাছের মানুষ মাকে হারান। একই সময়ে তার দীর্ঘদিনের বৈবাহিক জীবনেরও ইতি ঘটে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভ এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়ালে’র শিকার হন বলেও দাবি করেন।

শুভ বলেন, রাজনীতিতে নিজের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। আমার মনে হয় ‘মুজিব’ সিনেমায় অভিনয় করার কারণেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু আমি সারাজীবন অভিনয়ই করেছি। আমাকে কেউ কখনও রাজনৈতিক কোনো কিছুর সঙ্গে প্রমাণ করতে পারবে না।

এই কঠিন সময়ে সহকর্মীদের পাশে না পাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এ অভিনয় শিল্পী, কারণ এর মাধ্যমেই তিনি আসল মানুষদের চিনতে পেরেছেন। নিজের জীবনের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে মাকেই দেখছেন এই অভিনেতা। 

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মায়ের ৯ বছরের সেবা এবং তার কঠিন সংগ্রামের গল্প শুনিয়ে শুভ বলেন, মা ৯০০০ টাকা বেতনে চাকরি করে আমাদের বড় করেছেন। আমার হার না মানার মানসিকতা তারই দেওয়া। 

দেশের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিলেও মানসিক কষ্টকে সমাজ আজও রোগ হিসেবে গণ্য করতে চায় না।

মুম্বাইয়ের কাস্টিং এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘ অডিশন শেষে শুভ যুক্ত হয়েছেন নতুন কাজ ‘সিটি’-তে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কলকাতার মিউজিক্যাল কালচার নিয়ে এই কাজটির জন্য তিনি বেশ আশাবাদী। ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র ২৫৭ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় আসা শুভ ভবিষ্যতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখেন।

এই বিভাগের আরও খবর