img

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়া সব জাহাজ অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এই অবরোধ শুধু ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সোমবার ওয়াশিংটন সময় সকাল ১০টা থেকে এটি কার্যকর হবে।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানকে ‘অবৈধ’ টোল দিয়ে পার হওয়া জাহাজও আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকলেও আটকানো হবে। তিনি লিখেছেন, ‘যে অবৈধ টোল দেবে, সমুদ্রে তার নিরাপদ যাত্রা নেই।’

তবে এই অবরোধের বাস্তবিকতা কেমন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবরোধ একটি যুদ্ধের পদক্ষেপ এবং এটি কার্যকর রাখতে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ দরকার। বাইডেন প্রশাসনের সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা ডানা স্ট্রল বলেছেন, ‘ট্রাম্প দ্রুত সমাধান চাইছেন। বাস্তবতা হলো, এই অভিযান একা চালানো কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।’

সাবেক মার্কিন নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল গ্যারি রাফহেড সতর্ক করেছেন, অবরোধ শুরু হলে ইরান উপসাগরে জাহাজে হামলা করতে পারে বা মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোয় আঘাত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমরা এটা শুরু করলে ইরান কোনো না কোনোভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসি ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ প্রণালির কাছে এলে সেটাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

ট্রাম্প রোববার স্বীকার করেছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও গ্যাসের দাম বেশি থাকতে পারে। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং রিপাবলিকানরা কংগ্রেস হারানোর আশঙ্কায় আছে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ইরান যদি প্রণালিতে আরও মাইন পাতে বা ট্যাংকারে বোমা হামলা চালায়, তাহলে এটা কীভাবে গ্যাসের দাম কমাবে?’

বিশেষজ্ঞ স্ট্রল বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটের সমাধান কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই করতে হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ