হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দাবি, নাকচ করল ইরান
হরমুজ প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণে কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) সেই দাবি দ্রুতই অস্বীকার করেছে ইরান। খবর আল জাজিরার
শনিবার (১১ এপ্রিল) সেন্টকম জানায়, ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি ‘হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব উপসাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। একইসঙ্গে তারা সমুদ্র মাইন অপসারণের মিশনে কাজ করছে।’
মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানান, প্রণালিতে এই জাহাজগুলোর উপস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন পথ তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শিগগিরই এই নিরাপদ পথটি সমুদ্র পরিবহন খাতের সঙ্গে ভাগ করে নেব। যাতে বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ উৎসাহিত হয়।’
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। কেবল পূর্ব অনুমোদিত জাহাজ ছাড়া। এর ফলে বাণিজ্যিক ও সামরিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র দ্রুতই মার্কিন দাবিকে অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, সেন্টকম কমান্ডারের মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে—এই দাবি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। যেকোনো জাহাজের চলাচল ও পারাপারের উদ্যোগ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচল করলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানভিত্তিক সাউথ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান বলেন, যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করে থাকে, তবে তা অবশ্যই তেহরানের অনুমতি নিয়ে হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল অসম্ভব।
এদিকে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক।
মঙ্গলবার ঘোষিত প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর এই আলোচনা শুরু হয়। তবে আলোচনার শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। মূল বিরোধের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, এবং ইসরাইলের লেবাননে অভিযান ও চলমান হামলা যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে কিনা।
ইরানি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত দাবি’ তোলার অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আলোচনায় প্রণালিটি ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ মতবিরোধের’ একটি প্রধান বিষয়।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জলপথে মাইন থাকার কারণে এতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিষয়টি অস্বিকার করে আসছে ইরান।

