আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় নিয়ে মা-বাবার প্রতিক্রিয়া
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আরও তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন— সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। মূল অপরাধীদের সাজা আরও বেশি আশা করেছিলাম। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়নি।
‘নামমাত্র স্বল্পমেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখন শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, আইনজীবী ও বড় ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, মূল অপরাধীদের আরও দীর্ঘ মেয়াদি সাজা আশা করেছিলাম। সরকারের কাছে দাবি করছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।

