img

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দূরপাল্লার জেএএসএসএম-এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যেই ইরান যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।  পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পুরো জেএএসএসএম-ইআর (জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল–এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। 

এসব ক্ষেপণাস্ত্র অন্য অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত মজুদ থেকেও সরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থাপনা থেকে যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে পাঠানো হচ্ছে। 

এ স্থানান্তরের পর দুই হাজার ৩০০ জেএএসএসএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র ৪২৫টি বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট থাকবে।

ভাণ্ডারে থাকা ওই ৪২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ১৭টি বি-ওয়ানবি বোমারু বিমান একসঙ্গে বড়জোর কেবল একটি মিশনই চালাতে পারবে। এর বাইরে নষ্ট ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকা আরও ৭৫টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় আছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে।  এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে সৈন্যদের ঝুঁকি কমলেও ভবিষ্যতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত মজুদ কমছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করেছে, ফলে সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।  তবে ইরান এফ-১৫ই ও এ-১০ বিমানসহ দুটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারের বেশি জেএএসএসএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ইতোমধ্যে এক হাজার ৬০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় চার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এসব প্রতিরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সংখ্যক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, যা যুদ্ধকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল করছে।

এই বিভাগের আরও খবর