img

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।  আহত হয়েছে প্রায় এক ডজন মানুষ।  এ ছাড়া ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন শত শত মানুষ বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ)।  খবর দ্য ডনের। 

পিডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা লোরালাই জেলায় ঘটেছে, সেখানে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। এ ছাড়া লোরালাই ও ঝোব জেলায় ঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, গত ২০ মার্চ থেকে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছেন।  তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়া, বজ্রপাত এবং ঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অব্যাহত ভারী বর্ষণে বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ফসল নষ্ট হয়েছে। কাচ্ছি, ঝোব, কিলা আবদুল্লাহ ও হারনাই জেলায় অন্তত ১৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১২২টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কাচ্ছিতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভারি বৃষ্টিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে হারনাই ও কোহলু জেলায় বেশ কয়েকটি মহাসড়ক ও সংযোগ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে।

ঝোব জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুই তহসিলে একটি জরাজীর্ণ বাড়ি ধসে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।  অন্যদিকে, ডেরা বুগতিতে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে গমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নাসিরাবাদ, জাফরাবাদ ও ঝাল মাগসি জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গবাদিপশুর ক্ষতি এবং মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সড়ক বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

এ ছাড়া কাচ্ছি ও ডেরা মুরাদ জামালি অঞ্চলেও তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে, যাতে হাজার হাজার একর ফসল নষ্ট হয়েছে এবং বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর