img

পাকিস্তানের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা—সুসংগঠিত বেতন কাঠামোর অভাব।

সম্প্রতি অভিনেতা ওয়াসি চৌধুরীর ঈদুল ফিতরের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় মুখ খুলেছেন দেশটির তারকা অভিনেত্রী মাহিরা খান। তার সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ফাহাদ মুস্তাফাও।

অনুষ্ঠানে মাহিরা খান ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যকার আর্থিক অসমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই অভিনেত্রী মনে করেন, শোবিজে নতুন শিল্পীরা যেখানে ইন্ডাস্ট্রিতে স্রেফ টিকে থাকার জন্য লড়ছেন, সেখানে সিনিয়র শিল্পীরা তুলনামূলক সহজে কাজ ও অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।

মাহিরা জানান, বিশ্বজুড়ে শিল্পীদের জন্য রয়্যালটি (কাজের লভ্যাংশ) দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না আমাদের হুবহু হলিউডকে অনুসরণ করতে হবে, কিন্তু এমন একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত যা নিশ্চিত করবে যে, কোনো শিল্পী যেন না খেয়ে না থাকে।’

অনেক প্রবীণ শিল্পী শেষ জীবনে গৃহহীন বা দেউলিয়া হয়ে পড়েন উল্লেখ করে মাহিরার ভাষ্য, ‘এর প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত সঞ্চয় করতে না পারা এবং নিয়মিত আয়ের অভাব।’

মাহিরা অভিযোগ করেন, একটি নাটক বা শো-এর মাধ্যমে টিভি চ্যানেল বা ব্রডকাস্টাররা বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে, যার খুব সামান্য অংশই পৌঁছায় শিল্পীদের কাছে। ‘চ্যানেলগুলো যখন এত টাকা আয় করছে, যার অনেক উৎস সম্পর্কে হয়তো আমরা জানিও না, তখনও আমাদের মতো শিল্পীদের টিকে থাকতে হিমশিম খেতে হয়,’ তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া জুনিয়র শিল্পী, পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা, টেকনিশিয়ান এবং ক্রু সদস্যরা সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত থাকেন বলে উল্লেখ করেন মাহিরা।

এদিকে পাকিস্তানে ‘অ্যাক্টরস কালেক্টিভ ট্রাস্ট’ বা ‘পাকিস্তান ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর মতো সংগঠন থাকলেও তারা এই সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না বলে মনে করা হয়।

এক্ষেত্রে অভিনেত্রী নাঈলা জাফরির অসুস্থতার বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদাহরণ। প্রখ্যাত এই পাকিস্তানি অভিনেত্রীকে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার সময় তার চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল, যা তখন ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে এনেছিল। মাহিরা সেই প্রসঙ্গটিও মনে করিয়ে দেন।

মাহিরা খান এটাও স্বীকার করেন যে, একজন সুপারস্টার হিসেবে তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা পান। তবে তিনি চান ইন্ডাস্ট্রির ছোট-বড় প্রতিটি মানুষ যেন তাদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি এবং আর্থিক সুরক্ষা পান।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ