গোয়েন্দারা ট্রাম্পকে জানিয়েছিল, উপসাগরীয় দেশগুলোতে পালটা আঘাত করতে পারে ইরান
ইরান আক্রমণ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা হতে পারে—এমন সতর্কতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের আগেই দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সোমবার (১৬ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই প্রতিক্রিয়া তাকে ‘বিস্মিত’ করেছে।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধের আগে দেওয়া মূল্যায়নে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা আঘাত আসার বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও এটি ছিল অত্যন্ত প্রবল একটি সম্ভাবনা।
সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন যে, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, ‘ইরান যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে, তা কেউ ভাবেনি। আমরা বিস্মিত হয়েছি।’
তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে ট্রাম্পকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, তেহরান যদি মনে করে উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার এই আক্রমণকে সমর্থন করছে, তবে তারা সরাসরি সেই দেশগুলোর রাজধানী বা সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করতে পারে।
যুদ্ধের আগেই ট্রাম্পকে অবগত করা হয়েছিল যে, ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ইরান খুব দ্রুত আমেরিকায় আঘাত হানার মতো মিসাইল তৈরি করবে এবং পারমাণবিক বোমা বানাতে তাদের মাত্র ২-৪ সপ্তাহ লাগবে। তবে গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো এই তথ্যের পেছনে শক্ত কোনো প্রমাণ পায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘এপিক ফিউরি’ অপারেশনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় সব ধরণের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
এছাড়া গত দুই সপ্তাহে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দর, হোটেল এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গত সপ্তাহে প্রশাসনের ব্রিফিং থেকে বের হয়ে জানান যে, ইরান থেকে এমন কোনো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ ছিল না যার জন্য এই যুদ্ধ শুরু করা জরুরি ছিল। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে চালানো এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

