img

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, ইরানে তাদের কয়েক হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং দেশটি এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। 

তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক করলেও ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযানের পরিধি কমানোর কোনো লক্ষণ দেখায়নি। 

ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন রোববার (১৫ মার্চ) জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং তারা প্রতিদিন নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী তিন সপ্তাহ অর্থাৎ ইহুদি উৎসব পাসওভার পর্যন্ত তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্যও গভীরতর রণকৌশল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তার মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ও ইতালীয় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান দাবি করেছে যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। সমুদ্রপথের এই ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রোববার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যা এই সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বা যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির পাল্লাও সমানভাবে ভারী হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ