নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করতে চায় না ইসরাইলও
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুধু গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধী নন, একই সঙ্গে তিনি অনিয়ম-দুর্নীতিতেও অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের মামলায় বিচারও চলছে। তবে তিনি ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন, যেন তাকে অভিযোগগুলো থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেটাও তার ভাগ্যে জুটছে না।
ইসরাইলি বিচার মন্ত্রণালয়ের ক্ষমা বিভাগ নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার সুপারিশ করছে না বলে জানা গেছে। তাদের মতে, দুর্নীতি মামলায় নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদনটি প্রয়োজনীয় শর্ত ও নিয়মনীতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
এ বিষয়ে হিব্রু গণমাধ্যম ওয়াইনেটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। রিপোর্টটি এমন সময় এল যখন বিচার মন্ত্রণালয় আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘোষণা করেছে যে, তারা নেতানিয়াহুর আবেদনের ওপর আইনি অবস্থানপত্র তৈরির কাজ শেষ করেছে। নথিটি ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুর কাছে পাঠানো হয়েছে। বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এই নথিপত্র প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজগের কাছে পাঠানোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব এলিয়াহুকে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের হাতে। লেভিন বা এলিয়াহুর এই প্রক্রিয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব নেই, তবে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানোর আগে তারা নথিটি পর্যালোচনা করার অধিকার রাখেন।
২০২০ সাল থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে বিচার চলছে। ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমা বিভাগ জানায়, নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করা কঠিন হবে, কারণ তার বিচার এখনো চলছে এবং তিনি এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি। এছাড়া তিনি তার ক্ষমার আবেদনে অপরাধ স্বীকার করেননি বা নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।
ইসরাইলের উচ্চ আদালত এর আগে রায় দিয়েছিল যে, তাত্ত্বিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেও ক্ষমা মঞ্জুর করা সম্ভব, তবে সেটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
নথিটি হাতে পাওয়ার পর এলিয়াহু বলেছেন, ক্ষমা বিভাগ তাদের মতামতে উল্লেখ করেছে যে এই ক্ষমার আবেদনটির জন্য ‘প্রেসিডেন্টের আরও মনোযোগ প্রয়োজন।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্য প্রেসিডেন্ট হারজগের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এর জবাবে হারজগ জানান, তিনি যেকোনো বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেবেন।

