img

ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক রেজাউল করিম ওরফে বাপ্পারাজের আজ জন্মদিন। ১৯৮৬ সালে বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরেই রুপালি পর্দায় পা রাখেন বাপ্পারাজ। নায়করাজ রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা বাপ্পারাজ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে আসছেন। এতে প্রায় শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। যদিও বর্তমানে সিনেমা থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন বাপ্পারাজ। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছেন ‘পোড়ামন ২’ সিনেমায়। সেখানে নায়ক সিয়ামের বড় ভাইয়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় দেখিয়েছেন তিনি। আর সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। এখনো তিনি নেটিজেনদের মাঝে আলোচনায় থাকেন।

একসময়ের এই ‘ট্র্যাজেডি নায়ক’ বাপ্পারাজ আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে ত্রিভুজ প্রেমের সিনেমায় বেশি নজর কেড়েছেন। ঢালিউডে একজন সফল নায়ক তিনি। ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য রোমান্টিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। সেসব সিনেমা হতো ত্রিভুজ প্রেমের। প্রায় সিনেমাতেই তিনি থাকতেন স্যাক্রিফাইসের ভূমিকায়। আপন মনে ভালোবেসে চলা প্রিয়তমাকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে সিনেমার শেষ দৃশ্য বেদনার করে তুলতেন। এই চরিত্রগুলোতে সাবলীল অভিনয়ে নব্বই দশকে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন বাপ্পারাজ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, দর্শক কোনো সিনেমায় বাপ্পারাজ আছেন দেখলেই ধরে নিতেন— সেই সিনেমার শেষ দৃশ্যে করুণ পরিণতির শিকার হবেন তিনি।

বাপ্পারাজ অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু নাটকও পরিচালনা করেছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে— ‘কাছের মানুষ রাতের মানুষ’ এবং ‘একজন লেখক’। সেই সঙ্গে ‘কার্তুজ’ সিনেমা পরিচালনা করেছেন। 

এর আগে গত বছর শুরুর দিকে তার অভিনীত সিনেমা ‘প্রেমের সমাধি’র বিখ্যাত সংলাপ ‘চাচা হেনা কোথায়?’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেই সংলাপ ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে হাস্যরসাত্মকভাবে ‘হেনা’র নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমায় বাপ্পারাজ ও শাবনাজ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ সিনেমার এক পর্বে নায়ক বকুল (বাপ্পারাজ) দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে তার প্রেমিকা হেনার (শাবনাজ) বাড়ি সাজানো দেখতে পান। বকুল হেনার বাবাকে জিজ্ঞেস করেন—'চাচা, বাড়িঘর এত সাজানো কেন? চাচা, হেনা কোথায়?' চাচা জবাব দেন— 'হেনাকে তুমি ভুলে যাও, হেনার বিয়ে হয়ে গেছে।'  

বকুল (বাপ্পারাজ) তখন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, 'না না, হেনার বিয়ে হতে পারে না। এ আমি বিশ্বাস করি না।' এরপরই বাজতে শুরু করে ‘প্রেমের সমাধি ভেঙে, মনের শিকল ছিঁড়ে, পাখি যায় উড়ে সে যায়’ গান।

সেই সময় সংলাপটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বহু মিম ও ভিডিও ক্লিপে ব্যবহার হয়েছিল। নেটিজেনরা নিজেদের মতামত এবং হাস্যরসের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিষয়টিকে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছিলেন।

বাপ্পারাজ অভিনীত ত্রিভুজ প্রেমের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমের সমাধি’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভুলোনা আমায়’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, ‘ভালোবাসা কারে কয়’। এমন বেশ কিছু সিনেমা তাকে দিয়েছে অনন্য জনপ্রিয়তা। এ ছাড়া ‘বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সৎ ভাই’, ‘জবাব চাই’ ইত্যাদি সিনেমাগুলো দিয়ে দর্শকদের মন ভরিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া 'তুমি বন্ধু আমার, চির সুখে থেকো’, ‘আমি তো একদিন চলে যাব’, ‘তোমরা সবাই থাকো সুখে’সহ বেশ কিছু বিরহ ঘরানার গান আজও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এসব গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন নায়ক বাপ্পারাজ। এসব গানে কষ্টের মাঝে এক ফালি হাসি দিয়ে হাজারো দর্শকের হৃদয় জয় করে নেন অভিনেতা বাপ্পারাজ।

এই বিভাগের আরও খবর