চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু, পথে আরও ৪টি
চট্টগ্রাম বন্দরে ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেলবাহী আরও চারটি জাহাজ দেশের বন্দরের পথে রয়েছে।
আগামী ১২ ও ১৪ মার্চ এলএনজি ও ডিজেল নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে।
বুধবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ এরইমধ্যে খালাস শেষ করে চলে গেছে এবং বর্তমানে ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
এ সব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছবে।
সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের সব ধরনের জ্বালানি পাইপলাইনে রয়েছে। তাই দ্রুত সংকটের কোনো শঙ্কা নেই।
বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ৫ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের আরেকটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। ‘লিয়ান হুয়ান হু’ জাহাজটি মঙ্গলবার সরাসরি বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। এ জাহাজের ডিজেল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েলের ডিপোতে খালাস হবে। এর আগে গত সোমবার ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল ট্যাংকার ‘শিউ চি’।
সূত্র জানায়, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সংকটের শঙ্কা দেখা দেয়। বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকট নিরসনে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা এলএনজি ও এলপিজি’র বেশ কিছু জাহাজ বন্দরে এলেও ডিজেলের জাহাজ এসেছে মাত্র দুইটি।
পাইপলাইনে রয়েছে আরও তিনটি ট্যাংকার। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ‘এসপিটি থেমিস’, যাতে ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে। ‘র্যাফেলস সামুরাই’ নামের আরেকটি ট্যাংকার শনিবার পৌঁছাবে।
এ ছাড়া ১৫ মার্চ ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ নামের আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল রয়েছে।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে দেশে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল যুক্ত হবে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি হয়েছে।
এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ।
বন্দরের সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, জ্বালানির্বাহী সব জাহাজকে অগ্রাধিকার বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

