সংসদ অধিবেশন শুরু বৃহস্পতিবার, জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে
এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সংস্কারে দাবি-দাওয়া ছিল অনেক। স্বৈরতন্ত্র ঠেকানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবিতে গঠিত হয় সংস্কার কমিশন। খাতওয়ারী আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেন অভিজ্ঞরা। সেসব সুপরিশ তথা সংস্কার প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বর্তমান সংসদের হাত ধরে। ফলে নতুন সংসদের গুরুত্ব অনেক বেশি।
সাবেক সচিব একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে নির্বাচন ঠিকভাবে হয় নাই। কোনো শক্তিশালী বিরোধী দল ছিল না। এখন মানুষের প্রত্যাশার পরিবর্তন হয়েছে। আমরাই সব, আমরাই তো সংখ্যাগরিষ্ঠ— এ রকম মনোভাব না রেখে যদি সুন্দরভাবে চলে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের একটা শুভ যাত্রা এখান থেকে শুরু হতে পারে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, শতকরা ৭০ শতাংশ সংসদ সদস্য নতুন। আগে তাদের অভিজ্ঞতা ছিল না। তার ওপরে প্রায় ৭০ শতাংশ হলো ব্যবসায়ী। সরকার যা কিছু করে সবকিছু অতি ভালো, অতি ভালো; আর বিরোধীরা অতি খারাপ, অতি খারাপ। এর বাইরে কিন্তু কোনো বিশ্লেষণ কেন ভালো-কেন খারাপ ওই আলাচনাগুলো হতো না। আশা করছি, ওই দিক দিয়ে এই সংসদ ভিন্নতর হবে।
প্রায় ৯ মাস আলোচনা করে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 'হ্যাঁ' ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যেখানে সমর্থন আছে জনগণের। ফলে জুলাই সনদের চুড়ান্ত কাঠামো পেতে সংসদ সদস্যদের অনুমোদন লাগবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে সরকার পরিবর্তন ও পরিচালিত হয়েছে। তাই সংস্কারের স্থায়ী রূপ দিতে হলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
শাহদীন মালিক বলেন, সুপারিশগুলো অন্তর্বর্তীকালীন বাস্তবায়ন করে নাই বললেই চলে। তাই তো? তখন এই সরকার কতটা বাস্তবায়ন করবে, সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। তার থেকেও বড় কথা হলো জুলাই সনদে অনেকগুলো ধারা বা বিধান করা হয়েছে, যেটা আমাদের সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এখন সংবিধান পরিপন্থী কোনো সংশোধন তো সংসদ পাশ করতে পারে না। পাশ করলে এটা কোর্টে চ্যালেঞ্জ হবে, বাতিল হয়ে যাবে।
একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, জুলাই সনদ যেটা তারা শপথ না নিলেও সেটা বাস্তবায়নের সুযোগ কিন্তু নষ্ট হয় নাই। যে অধ্যাদেশগুলো জারিয় হয়েছে, সেগুলো সংসদে উঠবে। এখন সেগুলো ওঠার পরে কতটুকু গ্রহণ হয়, কতটুকু বর্জন হয়, সেটার ওপর নির্ভর করবে। আমি মনে করি, এটা নিয়ে একেবারে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, অন্তবর্তী সরকার মোট অধ্যাদেশ দিয়েছিল ১৩৩টি। সবগুলোই সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

