লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার ইসরাইলের
দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে আবাসিক এলাকার ওপর এই মারাত্মক রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে অন্তত দুটি বাড়ি ও একটি গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাতটি ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। সাদা ফসফরাস অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই প্রজ্বলিত হয় এবং এটি মানবদেহে এমন গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে যা জীবনভর যন্ত্রণার কারণ হতে পারে।
সংস্থাটির লেবানন গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে জনাকীর্ণ এলাকায় এই অস্ত্রের ব্যবহার বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কেবল ইয়োহমোর গ্রামেই নয়, বরং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে বারবার সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এইচআরডব্লিউ এই কর্মকাণ্ডকে ‘বেআইনি এবং বাছবিচারহীন’ হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতির পরিপন্থী।
এই অমানবিক আচরণের প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মতো দেশগুলোকে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে গুরুতর অপরাধে জড়িত ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবারও বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লেবাননে চলমান এই সংকটে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৯৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

