img

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিচ্ছে তেহরান। একাই ১০টিরও বেশি দেশে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর মাধ্যমে লড়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। এরই মধ্যে এ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপের আরেকটি দেশ।

ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলে মন্তব্য করেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন ফিস্টার।  

আজ রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত ‘সোনটাগস জেইতুং’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিস্টার বলেন, ‘সুইস ফেডারেল কাউন্সিল মনে করে ইরানের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

সুইস মন্ত্রিসভার বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এটি সহিংসতার নিষেধাজ্ঞার একটি লঙ্ঘন।’

তিনি বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

ফিস্টার স্পষ্ট করেন, তিনি সেই সব দেশগুলোর কথা বলছেন, যারা সহিংসতার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে না, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও আছে। 

তিনি বলেন, ‘আমেরিকান ও ইসরাইলিরা আকাশপথে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে, যা অনুসরণ করেছে ইরানও।’

তার এ মন্তব্য জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিঙবেলের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। ক্লিঙবেল আরএনডি সংবাদপত্র নেটওয়ার্ককে বলেছিলেন যে, ‘এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ কিনা, তা নিয়ে আমার গুরুতর সন্দেহ আছে।’

ক্লিঙবেল আরও সতর্ক করে বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বের দিকে ক্রমশ ধাবিত হচ্ছি যেখানে আর কোনো নিয়ম অবশিষ্ট থাকবে না—এটি একটি বড় বিপদ। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে চাই না, যেখানে কেবল ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি কার্যকর হবে।

এদিকে স্পেনও ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বোমাবর্ষণকে হঠকারী এবং অবৈধ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি এ হামলা সম্ভবত জাতিসংঘ সনদের ‘আগ্রাসন নিষেধাজ্ঞা’ লঙ্ঘন করেছে এবং এর কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি নেই।

এই বিভাগের আরও খবর