ট্রাম্পের দাবি বনাম বাস্তবতা, ৬ সপ্তাহ নাকি ৬ মাস চলবে ইরান যুদ্ধ?
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়সীমা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া পূর্বাভাস নিয়ে বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাত চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই যুদ্ধ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ডেইলি মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সক্ষমতা এবং দেশটির পাল্টা আঘাত করার মানসিকতাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে ভুল করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রথমে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বললেও তার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আট সপ্তাহ এবং প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ছয় সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
তবে পলিটিকো জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পেন্টাগনের কাছে অন্তত ১০০ দিনের জন্য অতিরিক্ত গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই অভিযান ছয় মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
লন্ডন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইরানিয়ান স্টাডিজ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আরশিন আদিব-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারস্য উপসাগর এবং তার বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে খাটো করে দেখেছে। তার মতে, শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘকাল ধরে চলবে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেরাল্ড ফায়ারস্টেইন এই পুরো হামলাকে 'অ্যাড-হক' বা অগোছালো বলে সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যেন হুট করেই একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় মার্কিন প্রশাসনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর তথ্যমতে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন আমেরিকার প্রায় ৮৯ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ হচ্ছে। তেহরানের ওপর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অন্তর অন্তর অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে, যা এই খরচের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব এখন বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।

