অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে নিয়ে তাহেরের বিস্ফোরক মন্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ রাজস্বাক্ষী পাওয়া গেছে দাবি করে বিদায়ী অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুলেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি দাবি করেন, অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ‘লন্ডন যড়যন্ত্রের’ প্রধান হোতা। কাজের পুরস্কার হিসেবে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। তাকে অপসারণ করার পাশাপাশি অন্য যারা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সঙ্গে জড়িত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি তুলেন তিনি।
তাহের বলেন, ‘একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এ জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল, তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, মনের দাবি ছিল, গত ৫৬ বছরে এ জাতি কোনো নির্বাচন পায়নি। আমরা সকলে চেষ্টা করেছিলাম, যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে যারাই নির্বাচিত হয় তারাই সরকার গঠন করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, এই জাতির সাথে নির্বাচন নিয়ে ‘দালালি, গাদ্দারি করা হয়েছে’। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
তাহের বলেন, ‘এতোবড় আকাঙ্ক্ষা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এটা ভণ্ডুল করে দিয়েছে এই মীরজাফররা। সুতরাং এই মীরজাফরদেরকে, খলিলুর রহমানকে আমি দাবি করবো, সরকার যদি স্বচ্ছতা কিছুটা হলেও ...। খলিলুর রহমান ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ছিল, নিরাপত্তার অ্যাডভাইজার ছিল, তো তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়া উচিত এবং তাকেও জিজ্ঞাসাবাদে এনে ষড়যন্ত্র কীভাবে হয়েছে সেটাকে বের করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আর রিজওয়ানা (সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান) তো নিজেকেই বলছেন রাজসাক্ষী হয়েছেন নিজে নিজেই এবং তার কাছ থেকেও এই সত্য উদঘাটন করা উচিত।’
ভোটের পরও দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে মন্তব্য করেছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, নানা জায়গায় নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। হামলা করে জনগণের জীবন নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার প্রসঙ্গ টানেন সংবাদকর্মী।
এরই প্রেক্ষিতে প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, তাদের রাজনীতির যে অংশ নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে— সে অংশ নিয়ে আমার-আপনার কাজ করা উচিত। কখনো যেন সেই শক্তি মেইনস্ট্রিম হতে না পারে, আমরা সেই কাজটি করতে পেরেছি। তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দেইনি।
তবে তিনি কোনো দলের নাম নেননি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

