img

ঝুঁকিতে থাকা নারী এবং জেন্ডার-বৈচিত্র্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১২৮ মিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা (১ কোটি সুইডিশ ক্রোনা) সুইডেন সরকার ইউএনএফপিএ বাংলাদেশকে অনুদান দিয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সুইডেন সরকার ইউএনএফপিএ বাংলাদেশকে এ অনুদান দিয়েছে।

এই উদ্যোগটি নির্বাচিত জেলাগুলোতে কুসংস্কারমুক্ত ও অধিকার-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করবে, যাতে পিছিয়ে পড়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী নিরাপদে স্বাস্থ্যসেবা, সুরক্ষা ও সহায়তা পেতে পারে।

নীতিমালা প্রণয়নসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ সত্ত্বেও, বাংলাদেশে অনেক নারী এবং জেন্ডার-বৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ প্রায়শই স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বৈষম্য, সহিংসতা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সুইডিশ সহায়তা মূলত মিডওয়াইফারি-চালিত জনবান্ধব সেবা- যেমন অধিকার-ভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা, এইচআইভি ও যৌন সংক্রামক রোগ পরীক্ষা ও চিকিৎসা, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং রেফারেল সেবা প্রদান করবে। 

এই কর্মসূচিটি মিডওয়াইফ, ডাক্তার এবং প্যারামেডিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে, যাতে তারা বৈষম্যহীনভাবে ও গোপনীয়তা রক্ষা করে সেবাগ্রহীতা-কেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে পারেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনফপিএ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, সুইডেনের সাথে এই অংশীদারিত্ব আমাদের বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যারা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং অধিকার অর্জনে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মানসম্পন্ন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব সেবায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সুইডেন আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে, যাতে জীবন রক্ষাকারী সেবাগুলো তাদের কাছে পৌঁছায় যাদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় ইউএনএফপিএ-র সাথে সুইডেনের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব এবং অবদানের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সুইডেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, একটি স্থিতিশীল সমাজের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপরিহার্য; আর এই সহায়তা সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সামাজিক মর্যাদা বা পরিচয়ের কারণে কাউকে সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজের সংগঠন এবং কমিউনিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, সেবাপ্রদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে নিশিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি স্বাস্থ্য ও জেন্ডার সমতা সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধীনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরাসরি অবদান রাখবে।

এই বিভাগের আরও খবর