img

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচো, যার প্রকৃত নাম নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, দেশটির অন্যতম শক্তিশালী অপরাধচক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তার নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

এল মেনচো ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) নামে পরিচিত অপরাধচক্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংগঠনটি মেক্সিকোর সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদকচক্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পায়।

জালিস্কো অঙ্গরাজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কার্টেলটি চরম সহিংসতা ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য কুখ্যাত ছিল। তারা একাধিকবার সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং বিস্ফোরকসহ ড্রোন ব্যবহার করেছে। ২০১৫ সালে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টার সময় কার্টেল সদস্যরা রকেট লঞ্চার দিয়ে একটি সেনা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে। ২০২০ সালে মেক্সিকো সিটিতে তৎকালীন পুলিশপ্রধানের ওপর গ্রেনেড ও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাতেও এই সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

মার্কিন মাদকদমন সংস্থার মতে, এই কার্টেল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মাদকচক্রে পরিণত হয়েছিল। তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত ছিল বলে ধারণা করা হয়। কোকেন, মেথঅ্যামফেটামিন ও ফেন্টানিল পাচারের মাধ্যমে তারা বিপুল অর্থ উপার্জন করত। আধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র সদস্যদের কারণে সংগঠনটি মেক্সিকোর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এল মেনচো কর্মজীবনের শুরুতে পুলিশ সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরে নব্বইয়ের দশক থেকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন। মুক্তি পাওয়ার পর মেক্সিকোতে ফিরে আবার অপরাধ জগতে সক্রিয় হন। 

২০০৭ সালের দিকে এরিক ভ্যালেন্সিয়া সালাজারের সঙ্গে মিলে তিনি জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল গড়ে তোলেন। শুরুতে তারা সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে আলাদা হয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এল মেনচো জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিতেন এবং তার ছবি খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

তার নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা দেখা দেয়। কোথাও কোথাও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর