একুশে পদক পাচ্ছে ব্যান্ড ওয়ারফেজ, আবেগাপ্লুত হয়ে যা বললেন দলনেতা টিপু
বাংলাদেশের হেভি মেটাল সংগীতের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি ব্যান্ড ওয়ারফেজ। ১৯৮৪ সালের ৫ জুন ঢাকায় গঠিত হওয়া এই ব্যান্ডটি দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা রক ও মেটাল সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে রাজত্ব করছে। এ বছর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পেতে যাচ্ছে এ ব্যান্ড দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকায় জায়গা পেয়েছে ‘ওয়ারফেজ’।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইংরেজি গান কাভার করত এই ব্যান্ড দলটি। সেই সময়ের আরেক ব্যান্ড ‘ফিডব্যাক’-এর ভোকাল মাকসুদুল হকের পরামর্শে ইংরেজি ছেড়ে বাংলা গান শুরু করেন তারা। তখন থেকেই ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয় চার দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতে রাজত্ব করা ব্যান্ডটি।
১৯৯১ সালে দলের নামেই প্রকাশিত হয় প্রথম হেভিমেটাল গানের অ্যালবাম ‘ওয়ারফেজ’। বলা যায়, তাদের হাত ধরেই বাংলায় হেভিমেটাল জেগে ওঠে। ইংরেজি থেকে তরুণরা তখন বাংলা হেভিমেটালের দিকে মুখ ফেরায়। তাদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে ‘একটি ছেলে’, ‘বসে আছি’, ‘রাত্রি’, ‘আশা’, সন্ধ্যা’-এর মতো গানগুলো যা এখনো শ্রোতাদের কাছে একইরকম জনপ্রিয়।
ওয়ারফেজের জনপ্রিয় গানের তালিকায় ‘অসামাজিক’, ‘জীবনধারা’, ‘ধূসর মানচিত্র’, ‘মহারাজ’, ‘মৃত্যু এলিজি’, ‘পথচলা’, ‘পূর্ণতা’-এর মতো গানগুলো উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ব্যান্ডটি পথচলার চার দশক উদযাপন করেছে। দীর্ঘ এই যাত্রায় অনেক ভাঙা-গড়ার ভেতর দিয়ে গেলেও ওয়ারফেজ কখনোই হারিয়ে যায়নি। বরং যতবারই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়েছে, ততবারই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে তারা।
ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে জড়িতরা মনে করেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড্রামার টিপু ও গিটারিস্ট কমল দলটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। ওয়ারফেজের বর্তমান লাইন আপের দলনেতা ও ড্রামার টিপু, ভোকালে পলাশ, লিড গিটারে কমল, সামির ও সৌমেন।
এদিকে, যখন একুশে পদক পাওয়ার খবরটি ওয়ারফেজ পায়, তখন তারা একটি কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সুখবরে ব্যান্ডের দলনেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি কনসার্টে পারফর্মের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় এ খবর এল। খবরটি শুনে আমরা সবাই আপ্লুত। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সম্ভবত দেশের প্রথম ব্যান্ড হিসেবে রাষ্ট্রের এ সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছে ওয়ারফেজ।’
এই অর্জনে টিপু ব্যান্ডের সাবেক সব সদস্যদের স্মরণ করতেও ভুলেননি। তিনি বলেন, ‘এ পথচলায় এখন পর্যন্ত যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এ পুরস্কার সবার। প্রতিটা সদস্য থেকে নেপথ্যের প্রতিটা মানুষ এর ভাগীদার। এর কৃতিত্ব আমাদের প্রতিটি পরিবারের, তাদের অনেক স্যাক্রিফাইসে আমরা আজকের ‘ওয়ারফেজ’। কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সব শ্রোতা ও গণমাধ্যমকে। আপনারা না থাকলে আমরা অর্থহীন।’

