মৃত্যুর ৭ বছর পর একুশে পদক পাচ্ছেন আইয়ুব বাচ্চু, স্ত্রীর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশি ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো এই ব্যান্ড তারকা এবার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পাচ্ছেন। প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর এমন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানালেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। আইয়ুব বাচ্চুর ব্যান্ড এলআরবি-ও ফেসবুক পোস্টে তাকে স্মরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফেরদৌস আক্তার চন্দনা বলেন, ‘খবরটা শুনে খুশি হলাম। বাচ্চু থাকলে বেশি খুশি হতো। পুরস্কারটা নিজে হাতে নিতে পারলে খুশি হতো। বাচ্চুর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আছে। দেরিতে হলেও পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।’
২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করা আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন নিয়ে চন্দনা বলেন, ‘সবার দোয়া চাই। আমরা তার রেখে যাওয়া কাজ যেন শেষ করতে পারি।’ তিনি বর্তমানে ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর এই অর্জনে তার ব্যান্ড এলআরবি-ও তাকে স্মরণ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছে।
পোস্টে ব্যান্ডটি লিখেছে, ‘২০২৬ সালের একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন বাংলা রকের অগ্রদূত, কিংবদন্তি শিল্পী রক আইকন আইয়ুব বাচ্চু। এটি শুধু একজন শিল্পীর সম্মাননা নয়, এটি বাংলা সংগীতের প্রতি তার আজীবন সাধনা, সততা ও সাহসী সৃজনশীলতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
গিটার হাতে তিনি যে ভাষায় গান করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রেম, প্রতিবাদ, স্বপ্ন আর জীবনের গল্প তিনি সুরে সুরে বলে গেছেন অক্লান্তভাবে। আইয়ুব বাচ্চু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার গান আমাদের রক্তে, আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের চলার পথে বেঁচে থাকবে চিরকাল। একুশে পদক সেই চিরজীবী সুরেরই প্রাপ্য সম্মান।’
সঙ্গে ব্যান্ডটির তরফ থেকে এই সম্মাননা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ, সম্মানিত জুরি বোর্ড ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানানো হয়। উল্লেখ্য, এ বছর প্রথমবারের মতো একুশে পদক পাচ্ছে জনপ্রিয় হেভিমেটাল ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’।

